প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বড় পর্দায় ফুটবল খেলা দেখার ঘটনায় এক শিক্ষার্থী মারধরের অভিযোগে আসাদুজ্জামান ইমন নামে এক শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এ ঘটনায় জাকসুর ক্রীড়া সম্পাদকসহ আর্থিকভাবে দুজন জড়িত থাকার অভিযোগ এসেছে। তাদেরকে বহিষ্কারের দাবিতে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন ভুক্তভোগী এবং তার সহপাঠীরা।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন- বাংলা বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং জাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মাহমুদুর রহমান কিরণ, একই ব্যাচের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের আসাদুজ্জামান ইমন এবং দর্শন বিভাগের সাহানুর রহমান সানজু। তাদের মধ্যে আসাদুজ্জামান ইমনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ভুক্তভোগী হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাঈম আহমদ সানি। তিনি জানান, গত ২২ জুন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে ফুটবল খেলা দেখতে যান। সেখানে জাকসুর একটি রম্য বিতর্ক অনুষ্ঠান চলায় খেলা সম্প্রচারে অসুবিধা হচ্ছিল। রাত পৌনে ১১টার সময় যখন খেলার পর্দা বন্ধ হয়ে যায়, তখন জাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মাহমুদুর রহমান কিরণ ঘোষণা করেন, সবাই মঞ্চ থেকে নেমে না গেলে খেলা শুরু হবে না।
এসময় সানি দ্রুত খেলা চালুর পক্ষে কথা বললে কিরণ মঞ্চ থেকে নেমে এসে তাকে ধাক্কা দেন। এক পর্যায়ে কিরণ, ইমন ও সানজুসহ অজ্ঞাতপরিচয় কিছু ব্যক্তি তাকে কিল-ঘুষি মারেন এবং একই সঙ্গে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন সানি। পরে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে টিএসসির একটি ওয়াশরুমে আশ্রয় দিতে বাধ্য হন।
জাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মাহমুদুর রহমান কিরণ বলেন, 'অতিরিক্ত দর্শকের কারণে বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে আমি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করি। ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কেবল কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। পরে তিনি আহত হয়েছেন শুনে সৌজন্যবশত আমি তার হলে খোঁজ নিতে গিয়েছিলাম। আমার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ মিথ্যা ও অপবাদমূলক।'
অন্য অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান ইমনও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি জানান, তারা সেসময় বাগ্বিতণ্ডা থামানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে অভিযুক্ত সাহানুর রহমান সানজুর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, বুধবার (২৪ জুন) रात পৌনে ১০টায় পর্যন্ত ভুক্তভোগী এবং তার সহপাঠী ও হলের বন্ধুরা উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করছিলেন। তারা জানান, অভিযুক্ত বাকিদের বহিষ্কারের ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত উপাচার্যের কার্যালয় ত্যাগ করবেন না।
অন্যদিকে, এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান উপ-উপাচার্যবৃন্দ, রেজিস্ট্রারসহ প্রশাসনিক ব্যক্তিদের সঙ্গে জরুরি প্রশাসনিক বৈঠকে বসেন। রাত ১০টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বৈঠক চলছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন