প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ধানকাটা শ্রমিকের পরিচয়ে প্রবেশ করে ছমিরন খাতুন (৬০) নামের এক গৃহকর্ত্রীকে হত্যা করার ঘটনায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পিবিআই জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এ ঘটনার সঙ্গে আরও একজন পলাতক রয়েছেন। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন ঢাকার কদমতলী এলাকার আবদুর রহীমের ছেলে শরীফুল ইসলাম শান্ত (২৭), কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার কালিরহাট যশপুর কাজী বাড়ির জাফর আলীর ছেলে মো. মাসুম বিল্লা ওরফে রবিন (৩১) এবং কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার মোহাম্মদপুর এলাকার নুরু মিয়ার ছেলে আরাফাত হোসেন (১৪)। পিবিআই মাসুম বিল্লা ওরফে রবিনকে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লা নগরের হাউজিং এস্টেট এলাকায় পিবিআই কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মতিয়ার রহমান এসব তথ্য প্রকাশ করেন।
পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন আগে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ফিশারি ঘাটে একসঙ্গে গার্মেন্টস শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। পরে তারা ধানকাটা শ্রমিকের পরিচয়ে কুমিল্লায় এসে চান্দিনার অলিপুর গ্রামের ছমিরন খাতুনের বাড়িতে শ্রমিক হিসেবে অবস্থান নেন।
গত ৩ মে সকালে ছমিরন খাতুনের নিজ বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার শয়নকক্ষের দরজা খোলা ছিল। ঘরের কাঠের আলমারি খোলা ছিল এবং কাপড়চোপড় এলোমেলো অবস্থায় পড়ে ছিল। এ সময় বাড়িতে ধান কাটার শ্রমিক হিসেবে অবস্থান করা কয়েকজন শ্রমিক টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যান।
তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, ঘটনার দিন ধান কাটার কাজ ঠিকমতো না জানা এবং ধান নষ্ট হওয়াকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের সঙ্গে ছমিরন খাতুন ও তার স্বামীর কথা-কাটাকাটি হয়। পরে রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়লে আসামিরা হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে আসামিরা ছমিরন খাতুনের ঘরে প্রবেশ করেন। এরপর তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তার কাছে থাকা স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়ে পালিয়ে যান তারা। এ সময় বাড়ি থেকে ৭০ হাজার টাকা এবং প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার খোয়া যায়।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. বশির আহাম্মদ বাদী হয়ে চান্দিনা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে চান্দিনা থানা-পুলিশ সাত দিন তদন্ত করে। পরে মামলাটি পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত হওয়ায় ১০ মে পিবিআই কুমিল্লা জেলা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্তভার গ্রহণ করে।
মামলাটির তদন্ত করছেন পিবিআই কুমিল্লা জেলার উপপরিদর্শক (নিঃ) মো. আমিরুল ইসলাম। তদন্তের একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১২ থেকে ১৫ মে চট্টগ্রাম, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে শরীফুল ইসলাম শান্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৪ বছর বয়সী আরাফাত হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩ সেপ্টেম্বর ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী মো. মাসুম বিল্লা ওরফে রবিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মতিয়ার রহমান বলেন, গোয়েন্দা তথ্য ও বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে তদন্তের মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরো কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি আরো বলেন, হত্যাকাণ্ডে আরো কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত এখনো চলমান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন