প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পূজা চক্রবর্তী খোঁজ নিতে বোন, বোনের স্বামী ও সন্তানদের ফোনে ফোন করেন। কিন্তু কারোর ফোনেই কল যাচ্ছিল না।
এ অবস্থায় তাকে সন্দেহ হতে শুরু করে। পরে নিজের স্বামী অফিস থেকে ফিরে আসার পর পূজা তাকে নিয়ে বোনের বাড়িতে আসেন। সেখানে গিয়ে দেখেন, তাদের বাসার কলিং বেল বাজছে না। পুরো বাড়ি অন্ধকার দেখছেন। ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া পাচ্ছেন না। ঘটনা সম্পর্কে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ এসে একে একে চারটি মরদেহ উদ্ধার করে।
গতকাল শনিবার রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
এ সময় কান্না জড়িতকণ্ঠে পূজা চক্রবর্তী বলেন, "আমার স্বামী অফিস থেকে আসার পর বললাম, দিদিদের চারটা ফোনই বন্ধ কেন? চলো তো যাই ওদের বাসায়।"
ওদের অবস্থা দেখে পূজা বলেন, “আমরা এলাম, কলিং বেলও বাজলো না। পুরো বাড়ি অন্ধকার। দিদি, দিদি, আগামী (প্রার্থী), প্রিয়ম করে চিল্লাতে চিল্লাতে প্রতিবেশী কিছু আসলো। তখন এক প্রতিবেশী বললেন, আজকে দুপুরের দিকে কী জানি অর্ডার করছিল, পার্সেল আসছিল। তখন কলিং বেল চাপছে, কেউ খোলে না, লোকটা ঘুরে গেছে। পরে পাশের একটা বাসায় গিয়ে দুটো বাড়ির মাঝের ছোট্ট প্রাচীর টপকিয়ে উঠে গেলাম। জোরে জোরে জানালার থাই গ্লাসে ধাক্কা দেওয়ার পর দেখা গেল, সেটা খুলে গেছে। মোবাইলের আলো দিয়ে দেখি, ওদের ওয়্যারড্রবের ড্রয়ার খুলে কাপড়সহ যা যা ছিল সব ছড়ানো-ছিটানো। তখন আমি চিৎকার করে ফেললাম।"
পূজা চক্রবর্তী জানান, "বৃহস্পতিবার ভাগনি আগামী ফোন দিয়েছিল, রাত একটা-দেড়টার দিকে। এমনি কুশল বিনিময়। শনিবার আবার রাত পৌনে ৯টার দিকে ফোন দিয়েছি। আমার দিদির ফোনে ফোন ঢোকে না, দুঃখিত বলে। জামাইবাবুর ফোনেও ফোন ঢোকে না। ভাগনির ফোনেও ফোন ঢোকে না। আর প্রিয়ম যে ক্লাস ফাইভে পড়ে ওর একটা বাটন ফোন আছে, সেটাতেও ফোন ঢোকে না।"
তিনি আরো বলেন, পরে যখন তাদের বাড়িতে এসে দেখি, আমার ভাগনের লাশ খাটের নিচে। আমার বড় বোনকে সিঁড়িতে ফেলে রাখা হয়েছে। বড় বোনের ওপর ভাগনিকে ফেলে রাখা হয়েছে।"
পরবর্তী সময়ে গুলিতে প্রাণ হারানোর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বক্সার তেতের ঘটনাও ঘটে।
ঘটনার বিচার দাবি করে পূজা বলেন, "উনি জিলা স্কুলের একজন শিক্ষক ছিলেন। খুব ভালো মানুষ। অনেক কষ্টে এই বাড়িটি তৈরি করেছেন। খুব শান্ত মানুষ ছিলেন। তাদের সবাইকে এভাবে মেরে ফেলা হলো। আমাদের জীবনের নিশ্চয়তা কী! আমরা চাই, এর সুষ্ঠু বিচার হোক।"
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শহরের কামাল কাছনা এলাকার মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তীর দোতলা বাড়ির নির্মাণ কাজ এখনো শেষ হয়নি। এই বাড়ির দোতলায় সম্প্রতি পরিবারের লোকজন থাকার শুরু করেছিলেন গণপতি চক্রবর্তী। বাড়ির নীচতলাটা ফাঁকাই ছিল। তারা নতুন এসেছেন বলে এখনো প্রতিবেশীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠেনি।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার রাতে প্রীতিলতার বোন পূজা চক্রবর্তী এসে ডাকাডাকি করে। বাড়ির ভেতর থেকে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে তিনি পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে ফটক বন্ধ দেখে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে ডেকে পাঠায়। ফায়ার সার্ভিসের লোকেরা এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকতে সহায়তা করে।
রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (গোয়েন্দা) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, "তাদের খুন করা হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি। তাদের গলায় দড়ি প্যাঞ্চানো রয়েছে। তাদের পুরো ঘরবাড়ি তছনছ অবস্থায় রয়েছে। আমরা ধারণা করছি, এটি ডাকাতি হতে পারে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন