প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলে ৭০ মিটার গভীর একটি সরু কূপে পড়ে যাওয়া পাঁচ বছরের একটি শিশুকে দুই দিন পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটির নাম জাইনুল্লাহ এবং তাকে উদ্ধারে ১১ বছর বয়সী হাজরত ওমর বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে।
জাইনুল্লাহ বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে গিয়ে একটি শুকিয়ে যাওয়া কূপে পড়ে যায়। কূপটির গভীরতা ছিল প্রায় ৭০ মিটার এবং এর ব্যাস মাত্র ৩০ সেন্টিমিটার। কূপটি এতটাই সরু ছিল যে সেখানে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পক্ষে শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব ছিল না।
উদ্ধারকারীরা কূপের ভেতরে একটি ক্যামেরা নামিয়ে শিশুটির অবস্থান পর্যবেক্ষণ করেন। ক্যামেরার মাধ্যমে দেখা যায়, জাইনুল্লাহ কূপের নিচে একটি কোণে বসে আছে। তার পায়ের কাছে পানি জমে ছিল এবং মাথার ওপর দিয়ে পানি ঝরছিল। ঠান্ডা ও ভয়ের কারণে সে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল।
শিশুটিকে উদ্ধার করার জন্য প্রথমে দড়ি নামানো হয়। কিন্তু তার বয়স কম হওয়ায় দড়ির সঙ্গে কীভাবে নিজেকে বাঁধতে হবে, তা বুঝতে পারছিল না জাইনুল্লাহ। তিনজন শিশুকে কূপের ভেতরে নামানোর চেষ্টা করা হলেও, কূপটি এতটাই সরু ছিল যে শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ায় তারা ওপরে উঠে আসতে বাধ্য হয়।
পরে উদ্ধারকারীরা ১১ বছর বয়সী হাজরত ওমরের সাহায্য নেন। জানা যায়, এর আগেও সে একই ধরনের উদ্ধার অভিযানে কূপের ভেতরে নেমেছিল। পরিবারের সম্মতি নিয়ে হাজরত এবারও কূপে নামতে রাজি হয়।
প্রথমবার দড়িতে বেঁধে নামানোর সময় কূপের ভেতরে তার কাঁধ ও উরু আটকে যায়। ব্যথা পাওয়ায় সে চিৎকার করলে উদ্ধারকারীরা তাকে ওপরে তুলে আনেন। পরে দ্বিতীয়বার চেষ্টা করে হাজরত কূপের তলদেশে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
হাজরত জাইনুল্লাহর কাছে পৌঁছে তাকে দড়ির সঙ্গে যুক্ত করতে সহায়তা করে। ওপরে থাকা উদ্ধারকারীরা ধীরে ধীরে দড়ি টেনে প্রথমে হাজরতকে এবং পরে জাইনুল্লাহকে কূপ থেকে বের করে আনেন। এ সময় ঘটনাস্থলে শত শত মানুষ অপেক্ষা করছিলেন।
আফগানিস্তানে পানির সংকটের কারণে কৃষিজমিতে বিপুলসংখ্যক গভীর ও সরু কূপ খনন করা হয়েছে। এসব কূপের অনেকগুলো পরে শুকিয়ে গেলেও সেগুলোর মুখ যথাযথভাবে বন্ধ করা হয়নি। ফলে সেগুলো শিশুদের জন্য প্রাণঘাতী ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।
জাইনুল্লাহ যে কূপে পড়ে গিয়েছিল, সেটি দুই বছর আগে শুকিয়ে যায়। স্থানীয় কৃষকেরা কূপটির মুখ কাঠ ও মাটি দিয়ে ঢেকে রেখেছিলেন। সময়ের সঙ্গে কাঠ পচে যায় এবং মাটি আলগা হয়ে যাওয়ার পর কূপটি আবার বিপজ্জনক অবস্থায় পড়ে। খেলতে গিয়ে সেখানেই পড়ে যায় শিশুটি।
বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আফগানিস্তানে পানির সন্ধানে এ ধরনের গভীর কূপ খননের সংখ্যা বাড়তে থাকায় শিশুদের দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন