প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর পদত্যাগের পর সৃষ্ট পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে দেশের ৩২ জন বিশিষ্ট নাগরিক একটি আবেদন জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলের একজন আস্থাভাজন প্রতিনিধিকে অবিলম্বে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া উচিত। এই নাগরিকদের দাবি, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দিনেই পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব একজন পূর্ণমন্ত্রীর হাতে অর্পণ করার ফলে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের মধ্যে সরকারের প্রতি যে আস্থা তৈরি হয়েছিল, তা নষ্ট হওয়া উচিত নয়। কিন্তু কর্মকর্তার পদত্যাগের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সেই আস্থা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ সম্পর্কে শুক্রবার (২৬ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে। এ বিবৃতিতে সাইন করেছেন মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী, শিক্ষক, গবেষক, লেখক এবং বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাদের মধ্যে সুলতানা কামাল, খুশী কবির, ড. ইফতেখারুজ্জামান, জেড আই খান পান্না, ব্যারিস্টার সারা হোসেন,ড. শহিদুল আলম, ড. গীতি আরা নাসরিন, ড. জোবাইদা নাসরীন, পাভেল পার্থ, সালমা আলী, কাজল দেবনাথ, রেজাউল করিম চৌধুরী, দীপায়ন খীসা, মুক্তাশ্রী চাকমা, মেইনথিন প্রমীলা প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এ ঘটনায় পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। কিছু বিশেষ মহল দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বাধা সৃষ্টি করছে বলে মনে হচ্ছে। তাই পাহাড়ি জনগণের মধ্যে সরকারের প্রতি যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা এখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। তারা আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহাসিকভাবে বৈষম্য এবং বঞ্চনার শিকার রয়েছে। তাদের স্বতন্ত্র জীবনধারা, সংস্কৃতি এবং অধিকার রক্ষার লক্ষ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সই হয়েছিল। তারা উল্লেখ করেছেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারেও পাহাড় এবং সমতলের আদিবাসীদের অধিকার বিবেচনায় নিয়ে ‘রেইনবো নেশন’ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। বর্তমান সময়ে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে শূন্যতা সৃষ্টি হওয়া পাহাড়ি জনগণের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি করছে, যা সরকারের ভাবমূর্তির জন্য ইতিবাচক নয়। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি দ্রুত বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বিধান অনুযায়ী পাহাড়ি জনগণের মধ্য থেকে তাদের আস্থাভাজন একজনকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া উচিত। বিবৃতিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ‘ঘ’ খণ্ডের ১৯ ধারার উল্লেখ করে বলা হয়েছে, সেখানে উপজাতীয়দের মধ্যে একজন মন্ত্রী নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। তাদের কাছে এই বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, অতীতে বিএনপি সরকারের সময়ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর একজন সদস্যকে উপমন্ত্রী করা হয়েছিল এবং মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দায়িত্ব ওই সদস্যের ওপরেই ন্যস্ত ছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন