প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মানুষের জীবনে অনেক ধরনের অভ্যাস রয়েছে যা তাদের অজান্তেই ঘটে। এর মধ্যে আঙুল ফোটানো একটি সাধারণ অভ্যাস। যখন কাজের মাঝে একটানা টাইপ করতে করতে ক্লান্তি অনুভব হয়, তখন আঙুল ফোটালে ‘কট’ শব্দ হয়। এতে এক ধরনের অদ্ভুত শান্তি অনুভূত হয়। তবে অনেকেই বলেন, এই অভ্যাস পরিত্যাগ করা উচিত। তাদের মতে, এতে বাতের সমস্যা হতে পারে। আবার কেউ কেউ আঙুল ফোটানোর উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করেন। তাহলে আঙুল মটকানো আসলে ভালো, না খারাপ? বিজ্ঞান কী বলছে এ বিষয়ে?
শরীরের অস্থিসন্ধিতে (যেমন হাতের আঙুলের যেখানে চাপ দেওয়া হয়) কিছু খালি স্থান রয়েছে। এই স্থানগুলো তরল অস্থিমজ্জা দ্বারা পূর্ণ থাকে। আগে মনে করা হতো, আঙুল ফোটানোর সময় অস্থির মাঝে ফাঁক সৃষ্টি হয়। এর ফলে বুদ্বুদ তৈরি হয়, যা বেরিয়ে আসার সময় শব্দ সৃষ্টি করে।
‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের’ একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মাঝে মাঝে আঙুল ফোটানো বা হালকা শব্দ করা জয়েন্ট বা হাড়ের বড় ক্ষতি করে না। অনেকেই ক্লান্তি দূর করার জন্য বা মানসিক তৃপ্তির জন্য আঙুল মটকান। চিকিৎসকরা বলেন, এটি নিয়মিত না করলে ভয়ের কিছু নেই। আঙুল ফোটানোর সঙ্গে সরাসরি অস্থিসন্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্পর্ক নেই। তবে যদি আঙুল ফাটানোর সময় ব্যথা অনুভূত হয় এবং তা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ডা. বেরেজিকলিয়ান বলেছেন, আঙুল টানাটানি বা ফোটানোর সঙ্গে শরীরের হাতের ক্ষয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। তার দাবি, আঙুল ফোটানোর অভ্যাস ব্যাপক। যদি এটি ক্ষতিকর হতো, তাহলে এ বিষয়ে অনেক রিপোর্ট পাওয়া যেত। কিন্তু তা হয়নি। তাই আঙুল ফোটানোর সঙ্গে হাড়ের সমস্যা বা বাতের সম্পর্ক নেই।
ক্যালিফোর্নিয়ার চিকিৎসক আনগার ৬০ বছর ধরে নিজের ওপর একটি পরীক্ষা চালিয়ে আসছেন। তিনি প্রতিদিন নিয়মিতভাবে বাহাতের আঙুল ফুটিয়েছেন কিন্তু ডান হাত ধরেননি। এত দীর্ঘ পরীক্ষার ফলাফল? দুই হাতের মধ্যে কোনো পার্থক্য তিনি খুঁজে পাননি। এই আবিষ্কারের জন্য ২০০৯ সালে তিনি ‘আইজি নোবেল’ বা ইগনোবেল পুরস্কারও অর্জন করেছেন।
এখন প্রশ্ন হলো, আঙুল মটকানো কি সম্পূর্ণ নিরাপদ? মোটেই তা নয়। বাতের সমস্যা থাকলে অন্য জটিলতা হতে পারে। ক্রমাগত আঙুল মটকালে সাইনোভিয়াল মেমব্রেন ছিঁড়ে যেতে পারে এবং জয়েন্টগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এছাড়া, যারা খুব ঘন ঘন আঙুল মটকান, তাদের আঙুল দুর্বল হয়ে যেতে পারে। কবজির হাড়ও দুর্বল হয়ে যেতে পারে, ফলে হাতের শক্তি কমে যেতে পারে। তাই আঙুল মটকানোর অভ্যাস পরিবর্তন করাই ভালো।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন