প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সরকারি চাকরিজীবী, পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটে অবশেষে নবম পে-স্কেল আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট বা সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশের জন্য সুনির্দিষ্ট সময়সীমা এবং এই বাস্তবায়নের চূড়ান্ত রূপরেখা নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা কমিটি, যেটি মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে কাজ করছে, বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্য পৃথক তিনটি পে-কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করার পর চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরি করেছে। চলতি সপ্তাহেই এই বাস্তবায়নের রোডম্যাপ অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার কথা।
কমিটির সুপারিশটি প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেত পাওয়ার পর, আগামী জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে অথবা তার পরের সপ্তাহে (১৫ থেকে ২৫ জুলাই, ২০২৬-এর মধ্যে) অর্থ মন্ত্রণালয় নতুন পে-স্কেলের অফিশিয়াল গেজেট প্রকাশ করবে বলে জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে বড় ধরনের প্রস্তুতি চলমান। নতুন অর্থবছরের শুরু, তথা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে এই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার কথা অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নিজেই ঘোষণা করেছেন। তবে এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তের কারণে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের প্রক্রীয়া নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মনে এখনও নানা প্রশ্ন ও আলোচনা বিদ্যমান।
কত ধাপে ও কীভাবে বাড়বে বেতন? প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর নিশ্চিত করেছেন যে, নতুন পে-স্কেলের বেতন ও ভাতা একসাথে কার্যকর না করে কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করা হবে।
প্রথম ও দ্বিতীয় বছর: নতুন বেতন কাঠামোর প্রথম দুই অর্থবছরে মূলত কর্মচারীদের মূল বেতন বৃদ্ধি করা হবে, যা প্রায় ৫০ শতাংশ হারে বাড়তে পারে। তৃতীয় বছর: শেষ ধাপে গিয়ে মূল বেতনের সাথে আনুষঙ্গিক অন্যান্য সরকারি ভাতা কার্যকর করা হবে।
নতুন পে-স্কেলে কোন কোন ভাতা কমছে? অন্তর্বর্তী সরকারের পে কমিশন বনাম বর্তমান কমিটির খসড়া ২০২৫ সালে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত 'জাতীয় বেতন কমিশন' সরকারি কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। সেখানে বিদ্যমান সর্বনিম্ন স্কেল ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপ ১,৬০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়।
তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই উচ্চপর্যায়ের কমিটি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া তৈরি করেছে, যার ওপর ভিত্তি করেই গেজেট চূড়ান্ত করার কাজ চলমান রয়েছে।
নতুন অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ মোট ৮৯,৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্রাচুইটিসহ এই বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়ায় ১,৪১,৪৩৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৪৪,০০০ কোটি টাকা মূলত সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং পেনশনভোগীদের নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্যই নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রশাসনিক জটিলতায় গেজেট প্রকাশে সামান্য বিলম্ব ঘটলেও, যখনই এটি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হবে, সরকারি চাকরিজীবীরা বকেয়াসহ বেতন পাওয়ার সুবিধাটি পাবেন।
উল্লেখ্য, নবম জাতীয় পে ল নিয়ে চলতি সপ্তাহে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে পে মিশনের সুপারিশ পুনর্মূল্যায়নে গঠিত সচিব কমিটি। চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ওই বৈঠকেই পে-স্কেলের রূপরেখা চূড়ান্ত হতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন