প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রিয়তমার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে আংটি বাড়িয়ে ধরে প্রশ্ন করে, উইল ইউ ম্যারি মি? (তুমি কি আমায় বিয়ে করবে?)। প্রিয়তমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার এটি একটি চিরন্তন পদ্ধতি।
যুগ যুগ ধরে কোটি কোটি মানুষ এইভাবে প্রস্তাব দিয়েছেন এবং প্রেয়সীর হৃদয় জিতেছেন। কিন্তু কিছু কিছু মানুষ আছেন, যারা নারীর হৃদয় জয় করার জন্য বা প্রস্তাব দেওয়ার মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে নানারকম পাগলামি করেন। স্কাইডাইভিং করে বাতাসে ভাসতে ভাসতে, স্কুবা ডাইভিং করে সাগরের অতলে ডুবতে ডুবতে বা পাহাড়ের চূড়ায় উঠে, আগ্নেয়গিরি লাভার সামনে দাঁড়িয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার অনেক অ্যাডভেঞ্চারাস উদাহরণ রয়েছে। তবে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে নিউইয়র্কবাসীরা যে দৃশ্যটি দেখলেন, সেটি ঝুঁকি বিবেচনায় মানুষের মনে বহু দিন থাকবে।
নিউইয়র্কবাসীরা একা নন, বরং বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারের সুবাদে বিশ্বের কোটি মানুষ দেখেছে এই শ্বাসরুদ্ধকর অভিনব প্রপোজালের চিত্র।
গতকাল বুধবার দুপুর ১২টা নাগাদ ব্যস্ত নিউইয়র্কবাসীরা আচমকা দেখলেন আইকনিক এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের ১০২ তলার উপরে ব্রডকাস্ট এন্টেনার চূড়ায় মিলেছে দুইজন মানুষ। তাঁরা কোনোরকম নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া ১ হাজার ৪৫৪ ফুট উঁচুতে ব্রডকাস্ট অ্যান্টেনার চূড়ায় একটি ব্যানার টানাচ্ছিলেন। তাদের দুঃসাহসিক কাণ্ডকারখানা দেখে নিচের অনেকের শ্বাস রাখা দায় হয়ে উঠে।
মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় তাদের সেই ছবি। খবর পেয়ে নিউইয়র্ক পুলিশের বিশেষ রেসকিউ টিম, হেলিকপ্টার এবং ড্রোন নিয়ে ছুটে আসেন। সাংবাদিকরা হেলিকপ্টার নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন। নিচে যখন হুলুস্থুল, তখনো কালো পোশাক এবং মুখোশ পরা তাদের কোনো হেলদোল ছিল না। ব্যানার টানানোর পর তারা ধীরেসুস্থে কিছুটা নেমে এসে একটি প্লাটফর্মে দাঁড়ান। সেখানে পুরুষটি সেই চিরাচরিত ভঙ্গিতে হাঁটু গেড়ে বসে নারীটিকে প্রস্তাব দেন।
নিশ্চয়ই তিনি হ্যাঁ বলেছেন, কারণ পুরুষটি উঠে দাঁড়ালে তারা একে অপরকে আলিঙ্গন করেন ও চুমু খান। পুরো দৃশ্যটাই গোটা বিশ্ব সরাসরি দেখেছে। সবচেয়ে বেশি মানুষের কাছে দেখা প্রপোজালের বিশ্বরেকর্ডে এই ঘটনাটির কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী থাকবে বলে মনে হয় না। দুপুর ১টার দিকে পুলিশ সদস্যরা নিজেদেরও ঝুঁকি নিয়ে চূড়ায় উঠলেন এবং তাদের নিচে নামিয়ে আনেন।
ব্রডকাস্ট অ্যান্টেনার চূড়ায় তাদের টানানো কালো ব্যানারে বড় বড় সাদা অক্ষরে লেখা ছিল, ‘যখন ক্ষমতার লোভের চেয়ে ভালোবাসার শক্তি বড় হবে, তখন পৃথিবী শান্তি ফিরে পাবে।’ চারপাশে যুদ্ধের দামামায় শান্তির এ বাণী হয়তো অনেকের মনে স্বস্তি আনবে। তবে পুলিশ অনুমতি ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় যাওয়ার জন্য এই দুঃসাহসী রোমান্টিক জুটিকে হেফাজতে নিয়েছে। এত সুরক্ষিত একটি ভবনের চূড়ায় তারা কিভাবে এবং কখন উঠলেন, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
নিচে নেমে আসার পর দেখা গেল যে এই জুটি আগে থেকেই বিখ্যাত। তারা নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় ডকুমেন্টারি ‘স্কাওয়াকার্স: এ লাভ স্টোরি’র প্রধান চরিত্র রাশিয়ার বিখ্যাত রুফটপার অ্যাঞ্জেলা নিকোলাউ এবং ইভান বীরকুস। তারা শান্তি এবং ভালোবাসার বাণী নিয়ে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের চূড়ায় চড়ে বসেছিলেন।
কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তার ‘কেউ কথা রাখেনি’ কবিতায় বলেছেন, ‘ভালোবাসার জন্য আমি হাতের মুঠোয় প্রাণ নিয়েছি/দুরন্ত ষাঁড়ের চোখে বেঁধেছি লাল কাপড়।’ অ্যাঞ্জেলা এবং ইভান কবির কল্পনাকেও হার মানালেন। ১ হাজার ৪৫৪ ফুট উপরে উঠে ভালোবাসা আর শান্তির বাণীর ব্যানার টানানো তাদের জন্য দুরন্ত ষাঁড়ের চোখে লাল কাপড় বাঁধার চেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ছিল না। সত্যিই তারা ভালোবাসার জন্য হাতের মুঠোয় প্রাণ নিয়েছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন