প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে আসন্ন উছমানপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী মো. পারভেজ মিয়া তাঁর বিরুদ্ধে স্থানীয় কয়েকটি পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। অন্যদিকে, ঘটনাটিকে ঘিরে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন একই ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী অপর পক্ষ সৌদি প্রবাসী মো. কাদির মিয়া।
গত ১৮ অক্টোবর রোববার বিকালে উপজেলার নাজিরদিঘী বাজারে স্থানীয় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে মো. পারভেজ মিয়া (৩৫) জানান, সম্প্রতি স্থানীয় বেশ কয়েকটি দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকা এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও ফেসবুকে "কুলিয়ারচরে ইউপি নির্বাচনে মেম্বার প্রার্থীতা নিয়ে দুজনের বিরোধ" "প্রতিপক্ষের হুমকির মুখে দুই সন্তান নিয়ে বাড়ি ঘর ছাড়া প্রবাসীর স্ত্রী, দুই শিশুর পড়াশোনা অনিশ্চিত" সহ বিভিন্ন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এসব সংবাদকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে তিনি বলেন, "আসন্ন ইউপি নির্বাচনে আমি একজন মেম্বার পদপ্রার্থী হিসেবে এলাকার নানা উন্নয়নমূলক কাজ করে আসছি। নির্বাচনে প্রতিপক্ষের একটি মহল আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে উঠেপড়ে লেগেছে। এরই ধারাবাহিকতায় তারা আমিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কাদির মিয়া নাজিরদিঘী ও খৈলাজুরি সহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষকে বিদেশে নেওয়ার কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে সঠিক কাজ না দিয়ে হয়রানি করে আসছেন। এসব অনিয়ম ও হয়রানির প্রতিবাদ করায় তাঁকেসহ নাজিরদিঘী গ্রামের কয়েকটি পরিবারের সদস্যদের মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি প্রশাসনসহ বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উছমানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সিদ্দিক মিয়া, ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. সেতু মিয়া, মো. আঙ্গুর মিয়া, মো. ফজলু মিয়া ও মোছা. আনোয়ারা বেগমসহ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে সৌদি প্রবাসী মো. কাদির মিয়ার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন দাবি করে কাদির মিয়া নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সৌদি আরব থেকে ছুটিতে বাড়ি আসার পর তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মেম্বার পদপ্রার্থী পারভেজ মিয়ার চাচা মো. জাকির মিয়া ও তাদের এলাকাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার মো. ইয়াছিন মিয়া, মো. মামুন মিয়া, মো. মহসিন মিয়া, মো. জুনাইদ মিয়া, মো. আরমান মিয়া, মো. তরিকুল, মো. কাজল মিয়া, মো. তারেক মিয়া, মো. নাছির মিয়া, মো. মুন্না মিয়া, মো. ইকবাল মিয়া, মো. ইসাদ মিয়া, মো. মোস্তাকিম ও মো. আরমানসহ অন্তত ১৫ জন লোক বিভিন্ন সময় তাঁর সাথে যোগাযোগ করে সৌদি আরব যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চান। পরে তাঁর সহযোগিতায় তারা ঢাকার বনানীস্থ সরকার অনুমোদিত একটি এজেন্সিতে (ফাদার ইন্টারন্যাশনাল ওভারসিজ লি:, লাইসেন্স নং-২০৫১) যোগাযোগ করেন। ওখানে গিয়ে তারা এজেন্সি কর্তৃপক্ষের সাথে নিজেরা কথা বলে নিজ নিজ দ্বায়িত্বে টাকা-পয়সার লেনদেন করে নিয়ম মেনে শর্ত সাপেক্ষে ট্রেনিং শেষ করে তিন ধাপে তারা ওই এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরব যান। পরে তিনি জানতে পারেন সৌদি সরকারের নিয়ম অনুযায়ী যথাযত সময়ের মধ্যেই ফিউচার মেকার্স লি. কোম্পানির নামে আকামা নিয়ে কাজ শুরু করেন তারা। এদের মধ্যে ১৪ জনের আকামার মেয়াদ শেষ হয় ১৭ অক্টোবর এবং ১ জনের আকামার মেয়াদ শেষ হবে আসছে ২৪ অক্টোবর।
কাদির মিয়ার দাবি, সৌদি আরব যাওয়ার পর আকামার মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই মো. তরিকুল, মো. কাজল মিয়া, মো. তারেক মিয়া, মো. নাছির মিয়া, মো. মুন্না মিয়া, মো. ইকবাল মিয়া, মো. ইসাদ মিয়া, মো. মোস্তাকিম ও মো. আরমান সহ ৯জন প্রবাসী বেশি আয়ের আশায় কোম্পানির কাজ ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে যান। তিনি কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালাল নন এবং কারও বেতন বা টাকা আত্মসাতের সুযোগ তাঁর নেই। টাকা দেওয়া-নেওয়ার বিষয়টি কেউ প্রমাণ করতে পারলে তিনি টাকা ফেরত দেওয়ার চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেন।
অপর দিকে বিভিন্ন প্রমাণাদি উপস্থাপন করে তিনি আরো বলেন, আমার প্রতিদ্বন্দ্বী মেম্বার প্রার্থী মো. পারভেজ মিয়া আমাকে প্রার্থীতা থেকে সরাতে না পেরে সৌদি আরব লোক যাওয়ার বিষয়টিকে ইস্যু করে তাঁর সহযোগিদের সহায়তায় আমার বিরুদ্ধে ও আমার পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করে আসছে। আমার দেশের বাড়ি পুরুষশূন্য থাকায় আমার পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের হয়রানি করছে। আমার বৃদ্ধ মাকে জেল খাটিয়েছে। প্রতিনিয়ত আমার স্ত্রী সন্তানদের প্রাণনাশের হুমকি ধামকি দিয়ে বাড়ি ছাড়া করেছে। বর্তমানে আমার ১৩ বছরের ছেলে ও ৯ বছরের মেয়ের লেখাপড়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। শুধু তাই নয় পারভেজ মিয়ার সহযোগী মো. কাইয়ুম মিয়া আমার বাড়িতে গিয়ে আমার মা ও স্ত্রীর নিকট মোটা অংকের টাকা দাবী করেছে। আমার বাড়িতে যাওয়ার ভিডিও ফুটেছ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এসব ঘটনায় আমার পরিবারের পক্ষ থেকে কিশোরগঞ্জ আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং কুলিয়ারচর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছে। আমি এসবের সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।
তবে ঘটনার অনুসন্ধানে পাওয়া ভুক্তভোগী প্রবাসীদের মধ্য থেকে তরিকুল ইসলাম, তারেক মিয়া, কাজল মিয়া, নাসির মিয়া, ইকবাল মিয়া ও মুন্না মিয়ার পাঠানো ভিডিও বার্তায় ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। ভিডিও বার্তায় তারা
ফিউচার মেকার্স লি. কোম্পানির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করলেও প্রবাসী কাদির মিয়ার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার অভিযোগ তোলেননি। প্রবাসী মুন্না মিয়া যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, তাঁর নাম "রানা"-তিনি কাদির মিয়া নন। এ ছাড়া মেম্বার প্রার্থী পারভেজ মিয়ার চাচা মো. জাকির মিয়াও বর্তমানে বৈধ আকামা নিয়ে সৌদি আরবে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। প্রবাসী ও স্থানীয় সূত্র বিশ্লেষণ করে এখন পর্যন্ত কাদির মিয়ার বিরুদ্ধে আনীত প্রতারণার অভিযোগের কোন সত্যতা প্রমাণিত হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন