প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের দিল্লির জন্তর মন্তরে বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত নয় এমন এলাকায় প্রবেশের অভিযোগে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকার বিচার বিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ আদালত আরো দুই দিন বাড়িয়েছেন। সোমবার এ আদেশটি জারি করা হয়।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুনানি শেষে আদালত থেকে বেরিয়ে সৌরভ দাস মন্তব্য করেন যে, সেখানে ন্যায়বিচারের অভাব বিদ্যমান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে বিক্ষোভের সময় ওই এলাকায় প্রবেশের অভিযোগে তাদের জামিনের আবেদন কেন খারিজ করা হয়েছে।
পুলিশের গাড়ির ভেতর থেকে চিৎকার করে দাস বলেন, ‘আমরা জরুরি অবস্থার মধ্যে আছি। এখানে কোনো ন্যায়বিচার নেই। এটি পুলিশের আদালত। আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন কী ঘটছে। তারা কী যুক্তি দেখিয়েছে, তা শুধু একবার দেখুন।’ এই মন্তব্য তিনি ইউটিউব চ্যানেল ‘স্মিতা শর্মা জার্নালিস্ট’-এর সঙ্গে কথা বলার সময় করেন।
দিল্লির মন্দির মার্গ থানার একজন বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকার হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর নির্দেশ দেন। হিন্দুস্তান টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, সিজেপির নেতারা ১১ অক্টোবর দেওয়া মুচলেকার শর্ত জেনেশুনে ভঙ্গ করেছেন। তাদের আচরণও ছিল অশোভন। অনুমতি নেই এমন এলাকায় বারবার বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়ে তারা আইনের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, ‘আসন্ন পরিস্থিতি নিয়ে আশঙ্কা, অভিযুক্তদের অতীত আচরণ এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করে আমি মনে করি, অভিযুক্তদের লিখিত বক্তব্য জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। এ জন্য তাদের দুই দিন সময় দেওয়া হলো। তদন্ত কর্মকর্তার কাছে আগেই ওই বক্তব্যের একটি অনুলিপি জমা দিতে হবে।’
পুলিশের বক্তব্যের ভিত্তিতে আদালত জানিয়েছে, আটক সিজেপি নেতারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জন্তর মন্তর ও কনট প্লেসের মতো বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত নয় এমন স্থানে বারবার প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
আদালত আরো জানায়, তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পক্ষে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। এসব তথ্য থেকে শান্তি ভঙ্গ ও জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যথাযথভাবে বিবেচনা না করে এসব উদ্বেগ উপেক্ষা করা যায় না।
জন্তর মন্তরে অনুমতি ছাড়া প্রবেশের অভিযোগে গত ১৩ অক্টোবর আশুতোষ রানকা, সৌরভ দাস ও তাদের সহযোগী অজিঙ্ক্য শিন্ডেকে আটক করা হয়। ওই স্থানটি আগে বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত এলাকার স্বীকৃতি পেয়েছিল, কিন্তু পরে সেই স্বীকৃতি বাতিল করা হয়।
সেদিন সিজেপির প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তারা তালাবদ্ধ ফটক টপকে ভেতরে ঢুকছেন। শিন্ডেকে ব্যক্তিগত মুচলেকা ও পাঁচ হাজার রুপির জামিনদারের শর্তে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে দাস ও রানকাকে পরে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়।
আদালতের আদেশে বলা হয়, সিজেপির নেতারা শান্তি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুচলেকায় সই করেছিলেন। জন্তর মন্তরে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করে তারা সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন। সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকা গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েক দিন পর অভিজিৎ দীপকেও অল্প সময়ের জন্য আটক করা হয়। গত ১৬ অক্টোবর কনট প্লেসে যাওয়ার পথে পুলিশ তাকে আটক করে।
সেদিন কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ নামে পতাকা মিছিলের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। পরদিন একজন বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশে শর্তসাপেক্ষ জামিনে মুক্তি পান দীপক। জামিনের অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল, পরবর্তী এক বছর তার পক্ষ থেকে কোনোভাবেই শান্তি ভঙ্গ করা যাবে না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন