প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্যের নিকট ৯ দফা দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)।
বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্পের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, ৭ একর জমিতে এক হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীর জন্য অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ এবং মেডিক্যাল সেন্টারের উন্নয়নের দাবিতে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে প্ল্যাকার্ড নিয়ে অডিটরিয়ামে প্রবেশ করেন বলে জানা গেছে। স্মারকলিপিতে বলা হয়, এর পর প্রক্টরিয়াল বডি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের প্ল্যাকার্ড কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক তাদের বের করে দেন।
এরপর, শহীদ ইকরামুল হক সাজিদ ভবনের সামনে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এই কর্মসূচিতে জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফসহ নির্বাচিত প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানান।
জকসুর অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা যদি আন্দোলন প্রত্যাহার না করো, তাহলে সিনক্রিয়েট করে তোমাদের এখান থেকে উঠিয়ে দেওয়া হবে।’
এরপর, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বহিরাগতদের নিয়ে এসে দেশীয় অস্ত্রসহ অবস্থানরত শিক্ষার্থী, জকসুর প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান বলেও স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ দুই জুলাইযোদ্ধা, ছাত্রশক্তির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ, ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীসহ অসংখ্য সাধারণ শিক্ষার্থী আহত হন।
এছাড়া, জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফ ও নির্বাহী সদস্য আব্দুল্লাহ আল ফারুককে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
জকসু আরো অভিযোগ করে যে, দীর্ঘ সময় ধরে হামলা চললেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি তাদের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জকসুর ৯ দফা দাবি হলো— প্রক্টরের পদত্যাগ ও শাস্তি নিশ্চিত করা; হামলাকারীদের চিহ্নিত করে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া; বহিরাগতদের বিরুদ্ধে মামলা করা; ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ; সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ ও বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা; আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয় বহন করা; শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; হাসপাতালে আহতদের খোঁজ না নেওয়ার দায়ে সংশ্লিষ্টদের অপসরণ করা এবং অছাত্রদের অসুস্থ রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা করা।
স্মারকলিপির শেষাংশে জকসু জানায়, আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে তারা প্রত্যাশা করছেন। অন্যথায়, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকে শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই বহন করতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন