প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়িতে সংঘটিত মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলায় প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য সুলতান-উল-কবির চৌধুরীকে আসামি করার ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। মৃত্যুর প্রায় একযুগ পর একটি ঘটনার মামলায় তার নাম আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (বাঁশখালী) আদালতে ৪০ বছর বয়সী পারভীন আক্তার নামের এক নারী একটি নালিশী দরখাস্ত দাখিল করেন।
মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও ৩০ জনের বিরুদ্ধে ১৪৩/ ৪৪৮/ ৩২৩/ ৩২৫ /৩০৭/ ৪২৭/ ৩৭৯/ ৩৮০/ ৩৮৫/ ৩৮৭/ ৩৫৪/ ৫০৬(২) দণ্ডবিধি ১৮৬০ ধারায় নালিশী দরখাস্তটি দাখিল করা হয়েছে। আসামির তালিকায় ১৩ নম্বরে সুলতান-উল-কবির চৌধুরী (৫৫) পিতা মৃত ফজুল কবির চৌধুরীর নাম উল্লেখ রয়েছে। তবে সাবেক এই সংসদ সদস্য ১২ বছর আগে মৃত্যুবরণ করেছেন।
মামলার প্রধান আসামি ইয়াসিন আরাফাত চৌধুরী (৪৫) জানান, মামলার যে ঘটনার তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে, সে সময় তিনি শ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোতে ছিলেন। একইসঙ্গে তিনি জানান, তার জেঠা ১৩ বছর আগে মারা গেছেন, তাকেও আসামি করা হয়েছে, যা হাস্যকর।
মামলার নথির একটি কপিতে দেখা যায়, আসামিদের তালিকায় সুলতান উল কবির চৌধুরীর নাম রয়েছে এবং নথিতে তার বয়সও উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে পুঁইছড়িতে মারামারির ঘটনা ঘটে এবং পরবর্তীতে মামলাটি দায়ের করা হয়। ওই মামলার আসামিদের তালিকায় প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য সুলতান-উল-কবির চৌধুরীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তবে এই ঘটনায় সবচেয়ে বেশি আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে। সুলতান-উল-কবির চৌধুরী ২০১৪ সালের ৩০ জুন মৃত্যুবরণ করেন। অর্থাৎ, ২০২৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বরের ঘটনার প্রায় ১২ বছর তিন মাস আগে তিনি মারা যান। ফলে মৃত্যুর একযুগ পর সংঘটিত একটি ঘটনার মামলায় তার নাম আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্নজন প্রশ্ন তুলেছেন। অনেকেই মামলার এজাহারে প্রয়াত সাবেক এমপির নাম কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হলো, তা নিয়ে আলোচনা করছেন।
স্থানীয়দের কেউ কেউ বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করার দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে মামলার এজাহার প্রণয়ন ও আসামিদের নাম অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়ায় কোনো ভুল হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, "আমি শুনেছি তবে মামলার কপি এখনও থানায় আসেনি, আসার পর দেখা যাবে কী করা যায়।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন