প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এক সময় ‘ডাইনি’ অপবাদ হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। বলা হয় রিয়া নাকি ‘কালো জাদু’ জানেন। আর এই অবস্থার প্রতিশোধ নিতে চান রিয়া!
সুশান্ত সিংহ রাজপুতের মৃত্যুর পর রিয়া চক্রবর্তীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছিল। এই ঘটনার পর মাল্টিপল ড্রাগ সংক্রান্ত কারণে একজন মাসের জন্য কারাবাসেও থাকতে হয়েছিল তাঁকে। পরবর্তীতে, তিনি আদালত থেকে সমস্ত অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন। তবে হাজতবাসের স্মৃতি এখনও তাঁকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। রিয়া নিজের শান্তি খুঁজে পেতে ভুলে গিয়েছেন। তাঁর চরিত্র নিয়ে নিরন্তর কাঁটাছেড়া হয়েছে। একটা সময়ে তাঁকে ‘ডাইনি’ অপবাদও দেওয়া হয়েছিল। শুনা যাচ্ছে যে, এবার নাকি সে সবের প্রতিশোধ নিতে প্রস্তুত এই কন্যা!
২০২০ সালের ১৪ জুন সুশান্তের মৃত্যু ঘটে। সুশান্তের মৃত্যুর মাত্র ছ’দিন আগে রিয়ার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভেঙে গিয়েছিল। অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, সুশান্তের টাকা নয়ছয়ের অভিযোগও উঠেছিল। তাঁর নামও মাদকযোগে শামিল হয়েছিল। সে জন্য তিনি এক মাস সংশোধনাগারে ছিলেন। মানসিকভাবে তখন কেমন অবস্থায় তিনি ছিলেন, সেই বিষয়ে আগেই বহুবার কথা বলেছেন রিয়া।
সম্প্রতি, চ্যাট শো ‘ডাবল ডেট’-এ ভাই শৌভিক চক্রবর্তীকে সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানে যান রিয়া। সেখানে তিনি এই মানসিক কষ্টের কথা বলেছিলেন। সুশান্তের রহস্যজনক মৃত্যুর পর কীভাবে তাঁর চরিত্র নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা চলেছিল, সেটার উপরও আলোকপাত করেন। ‘ডাইনি অপবাদে’ কীভাবে তাঁকে জেলে যেতে হয়েছিল, তা তিনি বর্ণনা করেন। রিয়া বলেন, “এমন এক পরিস্থিতি থেকে পুরোপুরি বের হয়ে আসা সম্ভব নয়। এটা এমন এক ট্রমা যার প্রভাব মনের পাশাপাশি শরীরেও পড়ে। এই ক্ষত সারিয়ে তোলা একদম সোজা নয়। সত্যি বলতে, আমাদের ‘পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার’ হয়ে গিয়েছে। যখন কেউ বাড়িতে বেল বাজায়, তখন সেখানেও আতঙ্ক হওয়া স্বাভাবিক। আপনি থেরাপি নিয়ে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারেন। কিন্তু আমাদের পরিস্থিতি যেহেতু গোটা দেশের আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল, তাই এটি মনে গেঁথে গিয়েছে।”
এই ঘটনার পর অভিনয়ের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। বেশ কয়েক বছর বড় কিংবা ছোট পর্দায় রিয়াকে দেখা যায়নি। তারপরে, তিনি একটি পোশাক সংস্থা খোলেন। সেই সংস্থার নাম রাখা চেয়েছিলেন ‘চুড়েল কা বদলা’। বাংলায় এটি ‘ডাইনির প্রতিশোধ’ হিসাবে অনুবাদ হয়। এই নাম নির্বাচনের পিছনে রিয়ার যুক্তি হলো, “এলে সমাজ যেভাবে আমাকে অপবাদ দিয়েছিল, তার প্রেক্ষিতেই এটি ছিল। এমনকি আমি মজার সব টি-শার্ট তৈরির কথাও ভাবতে হয়েছিল। কিন্তু সবাই আমাকে নেতিবাচক ভাবে চিন্তা করতে বারণ করেছিল। আমি তো ‘ব্ল্যাক শিপ’ লেখা ব্রেসলেটও তৈরি করিয়েছিলাম, কারণ তখন আমাদের ঠিক তেমনই মনে হয়েছিল। সমাজের চোখে আমরা যেন ‘ব্ল্যাক শিপ’, একেবারে অপ্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছিলাম।” রিয়া অবশ্য জানিয়েছেন, এমন কঠিন পরিস্থিতিতে মানসিকভাবে শান্ত থাকতে তাঁকে সাহায্য করেছে হনুমান চালিশা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন