প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার শহীদ রিয়া গোপ ক্রিকেট স্টেডিয়ামকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে এনে পুনরায় খেলাধুলার জন্য উপযোগী করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে, নগরীর ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামকে মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় আন্তর্জাতিক মানের পূর্ণাঙ্গ স্পোর্টস কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব উল আলম।
,
গতকাল বুধবার, স্টেডিয়াম দুটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। ফতুল্লার শহীদ রিয়া গোপ ক্রিকেট স্টেডিয়াম পরিদর্শন করে ক্রীড়া সচিব বলেন, স্টেডিয়ামটি একসময় আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। সর্বশেষ ২০১৬ সাল পর্যন্ত এখানে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু পরে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সমস্যাসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত ত্রুটির কারণে মাঠটি ধীরে ধীরে নিচু হয়ে যায়। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকার ফলে অন্যান্য অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একটি বিশেষজ্ঞ দল ইতোমধ্যে স্টেডিয়ামটি পরিদর্শন করেছে। তারা পুরো অবকাঠামো পর্যালোচনা করে মাঠটি পুনরায় খেলার উপযোগী করার বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা দিয়েছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) উদ্যোগে স্টেডিয়ামের আউটডোর অংশে মাটি ভরাটের কাজ করা হয়েছে উল্লেখ করে মাহবুব উল আলম বলেন, আরও কিছু কাজ বাকি রয়েছে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে মাটি ভরাটের কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রকল্প প্রস্তাব জমা হলে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ মতামত নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। তিনি বলেন, “আশা করছি, স্টেডিয়ামটির পূর্বের যে ঐতিহ্য ছিল, সেটি আবার ফিরিয়ে আনতে পারব। জেলা প্রশাসন, বিসিবি, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এর হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
এর আগে, ক্রীড়া সচিব ওসমানী পৌর স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ থেকে অনেক খেলোয়াড় জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করেছেন। তবে এখানকার ক্রীড়া অবকাঠামোকে এখনো পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়াম হিসেবে গড়ে তোলা হয়নি। মাহবুব উল আলম বলেন, “এটিকে কীভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়াম হিসেবে গড়ে তোলা যায়, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আমরা এটিকে একটি মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় এনে পূর্ণাঙ্গ স্পোর্টস কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”
প্রস্তাবিত স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ফুটবল, ক্রিকেট, ইনডোর গেমস ও ফুটসালসহ বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া সুবিধা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকার কাছাকাছি অবস্থানের কারণে নারায়ণগঞ্জের যোগাযোগ সুবিধা কাজে লাগিয়ে এখানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। ক্রীড়া সচিব বলেন, “আমরা এটিকে আন্তর্জাতিক মানের একটি স্পোর্টস কমপ্লেক্স হিসেবে তৈরি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।”
তিনি আরও জানান, তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলা ছড়িয়ে দিতে দেশের প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম তৈরির পাশাপাশি উপজেলা ক্রীড়া অফিসারের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। মেধা অন্বেষণ ও ট্যালেন্ট হান্টিংয়ের মাধ্যমে তৃণমূল থেকে খেলোয়াড় তৈরির কার্যক্রমও চলছে। পরিদর্শনের সময় নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক মাসুদুজ্জামান মাসুদ, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন