প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে পোনে দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি রাস্তার কাজের জন্য রাবিসমিশ্রিত এবং নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। কোদাল দিয়ে সড়কের খোয়া খুঁড়লে দেখা যাচ্ছে, খোয়ার তুলনায় রাবিসের পরিমাণ অনেক বেশি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাঁকৈরগড়া ইউনিয়নের বড়বাট্রা গ্রামের দুলাল মিয়ার দোকান থেকে নয়ন মিয়ার পুকুরপাড় পর্যন্ত এক কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ১ কোটি ৬৭ লাখ ১২ হাজার ৩০৫ টাকা। এটি গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। এলজিইডি এই সড়কটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সমীরণ চৌধুরী। প্রকল্পটির চুক্তি ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে সম্পন্ন হবে। কাজ শুরু করার জন্য লিখিত আদেশ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে দেওয়া হয়েছে। কাজ শেষ করার জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সড়কটির নির্মাণকাজ এখনো মেকাডম পর্যায়ে রয়েছে। এক কিলোমিটার সড়কের প্রায় ৪৫০ মিটার অংশে মেকাডম করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ অংশে রাবিস বা ময়লা মিশ্রিত খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে, এবং নিম্নমানের ইটও ব্যবহার করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আলী হোসেন মিয়া মন্তব্য করেন, "রাস্তার যে রাবিসমিশ্রিত খোয়া দেওয়া হচ্ছে, সেটি অত্যন্ত নিম্নমানের। এই রাস্তাটি এইভাবে চলতে থাকলে ৩/৪ মাসের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।"
অন্যদিকে, সোলাইমান কবির বলেন, "খোয়ার মধ্যে খুব নিম্নমানের খোয়া পাচ্ছি আমরা। আঙ্গুল দিয়ে ভেঙে ফেলতে পারছি। কাজগুলো যে নিম্নমানের হচ্ছে, এগুলো দেখে আমরা প্রতিবাদ করি, কিন্তু কোনো ফল পাই না। উল্টো ধমক শুনতে হয়।" সরেজমিনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আব্দুল হান্নানের সঙ্গে প্রতিবেদকের কথা হয়। তিনি বালুমিশ্রিত খোয়া ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করেছেন, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলতে রাজি হননি। পরে প্রকল্পের ঠিকাদার সমীরণ চৌধুরীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "আমার জানা মতে আমি কোনো খারাপ মাল দিয়ে কাজ করি নাই। এখন একজন তো বলতেই পারে। আপনি গিয়ে দেখেন আমরা কোনো খারাপ মাল দিছি কি না। অভিযোগ তো আসতেই পারে। কেউ অভিযোগ করলে আমি তো না করতে পারব না।"
এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবীর মন্তব্য করেন, "বালুর সঙ্গে খোয়া মিশ্রিত কিছু খোয়া পড়ছে শুনেছি। পরে আমি সরেজমিনে গিয়েছিলাম। ঠিকাদারের সঙ্গে কথা হয়েছে। বালুমিশ্রিত খোয়া সরানোর জন্য বলেছি। আগামীকাল (৫ অক্টোবর) সব খোয়া উঠিয়ে ফেলবে।" তিনি আরও জানান, "আমাদের নির্বাহী প্রকৌশলী মহোদয় ল্যাব থেকে লোক পাঠিয়েছিলেন। তাঁরাও এসে দেখে গেছেন, খোয়ার স্যাম্পল নিয়ে গেছেন। এই পরিস্থিতিতে রাস্তার কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন