প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পাওয়া নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী তার নিজ বাসভবনে জেলজীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, কারাগারে থাকার সময় নিয়মিত গানের আসর বসতো। সেই আসরের প্রধান শিল্পী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগীতশিল্পী এবং সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম।
এছাড়া, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে স্কুলজীবনের কিছু পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে আলাপকালে আইভী জানান, কারাগারে অনেক সময় সাংস্কৃতিক পরিবেশে বসতেন তারা। সেখানে মমতাজ বেগম বিভিন্ন গান পরিবেশন করতেন এবং বন্দিদের মন ভালো রাখার চেষ্টা করতেন।
আইভী জানিয়েছেন, ‘আমার ভাইয়েরে কইও নাইওর আনতো গিয়া’ এই গানটি গাইতে মমতাজকে নিষেধ করেছিলেন। কারণ, গানটি শুনলেই তার মনে পড়ে যেত সদ্যপ্রয়াত ছোট ভাই আহমদ আলী রেজা রিপনের কথা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৭ এপ্রিল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রিপনের মৃত্যু ঘটে। এর পর এক মাস পর আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আইভী বলেছেন, ভাইয়ের মৃত্যুর স্মৃতি এতটা তীব্র ছিল যে, ওই গান শুনলেই তিনি আবেগে ভাসতেন। সে কারণে তিনি মমতাজকে বলেছিলেন, "কারামুক্তির দিন চাইলে গানটি গাইতে পারবেন।" কাকতালীয়ভাবে, তার মুক্তির দিন বিকেলে কারাগারের গানের আসরে মমতাজ সেই গানটি পরিবেশন করেন, যদিও তখন আইভী জানতেন না যে, কয়েক ঘণ্টা পরই তিনি মুক্তি পেতে যাচ্ছেন।
জেলজীবনে তিনি একটি কবিতাও লিখেছেন, এবং সেই কবিতায় সুর দিয়েছেন মমতাজ বেগম।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, উপযুক্ত সময়ে গানটি জনসমক্ষে পরিবেশন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে আইভী হাস্যরসাত্মকভাবে বলেন, "আমি আবার কী কবিতা লিখি! খুব সাধারণ কিছু লেখা। মমতাজ আপা গুণী শিল্পী বলেই সেটাকে গান বানানোর চেষ্টা করেছেন।"
এ দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আইভীর বাসভবনে দেখা করতে আসেন সাবেক নারী কাউন্সিলর মিনুয়ারা বেগমসহ কয়েকজন নেতাকর্মী। তাদের সঙ্গে আলাপচারিতার এক পর্যায়ে ছোট ভাইয়ের স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি আইভী। একসময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে যান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন