প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রিয়জনের মৃত্যুর শোকের পাশাপাশি রহস্য উদ্ঘাটনের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কিন্তু ঘটনার ১৫ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। একাধিক অভিযোগ লিখে থানায় জমা দিতে গিয়ে সাড়া না পেয়ে, শেষ পর্যন্ত রাতের বেলায় আশুলিয়া থানার সামনে অবস্থান নিয়েছেন নিহতের স্বজনরা। তাদের দাবি, মামলা নিতে হবে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার নরসিংহপুরে অবস্থিত শারমিন গ্রুপের বহুতল ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মো. জামাল উদ্দিন (৩৯) নামের এক মার্চেন্ডাইজারের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় এ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে মামলার দাবি জানিয়ে আশুলিয়া থানার সামনে অবস্থান করছিলেন নিহত জামাল উদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, প্রথমে অজ্ঞাতনামা আসামি উল্লেখ করে মামলা করতে চাইলেও পুলিশ তা গ্রহণ করতে রাজি হয়নি। পরে নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দিতে গেলে নানা অজুহাতে তা গ্রহণ করা হয়নি। এর আগে বুধবার সকাল ৯টার দিকে শারমিন গ্রুপ থেকে জামাল উদ্দিনকে মৃত অবস্থায় আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে দুপুরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় আশুলিয়া থানা পুলিশ।
নিহত জামাল উদ্দিন গাজীপুর সদর উপজেলার বুরুলিয়া ডুয়েট এলাকার মৃত মো. সেকেন্দার আলীর ছেলে। তিনি শারমিন গ্রুপের ডিভিশন-৩-এর সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
‘সাত-আটবার অভিযোগ লিখেও মামলা দিতে পারিনি’
নিহতের বড় ভাই ইস্কান্দার আলী খানের অভিযোগ, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাদের সন্দেহ, কারখানার ভেতরের কেউ কোনো আক্রোশ থেকে তার ভাইকে হত্যা করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে তার অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইস্কান্দার আলী খান বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত হত্যা। কারখানা কর্তৃপক্ষ ও ভেতরের লোকজন ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আমরা প্রথমে থানায় মামলা করতে আসি, তখন মামলা নেয়নি। পরে অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে মামলা করতে চাইলে সেটিও নিতে চায়নি। এখন নাম উল্লেখ করে মামলা দিতে চাচ্ছি, কিন্তু নানা অজুহাত দেখানো হচ্ছে। সাত-আটবার অভিযোগ লিখে এনেও জমা দিতে পারিনি।’
তিনি আরো বলেন, ‘থানা থেকে বলা হচ্ছে, নাম ছাড়া মামলা করলে করতে হবে, নয়তো আদালতে গিয়ে মামলা করতে হবে। আমরা আমাদের অভিযোগ অনুযায়ী মামলা করতে না পারলে থানা থেকে যাব না। প্রয়োজনে সারা রাত থানার সামনে অবস্থান করব।
নিহতের স্বজনদের দাবি, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। তাদের অভিযোগের গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি তারা যেন ন্যায়বিচার পান, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
পুলিশ বলছে, প্রাথমিক তদন্ত শেষে মামলা
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যে নিহতের ভাই একটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন। প্রাথমিক তদন্ত শেষে সেটি মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তবে স্বজনদের অভিযোগ, মামলা গ্রহণে বিলম্ব হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
একজন কর্মজীবী মানুষের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে পরিবারে শোক ও অনিশ্চয়তা নেমে এসেছে। প্রিয়জনকে হারানোর বেদনার সঙ্গে এখন তাদের লড়াই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার। সেই আকুতি নিয়েই রাত গভীর হলেও থানার সামনে অপেক্ষায় রয়েছেন জামাল উদ্দিনের স্বজনরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন