প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জানিয়েছেন যে, আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে সারা দেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন ও পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকালে গাজীপুর সাফারি পার্ক পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, "সারা দেশে এখনো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন করা হয়নি।" তিনি উল্লেখ করেন যে, ঢাকার আমিনবাজারে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া, ঢাকা দক্ষিণেও বর্জ্য থেকে জ্বালানি ও সম্পদ উৎপাদন প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলা ও উপজেলা শহরগুলোতেও এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, "বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা না গেলে দূষণ নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সম্ভব নয়।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে সারা দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন দেখা যাবে।
গাজীপুর সাফারি পার্কের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, "ঢাকায় সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সভা করে সমস্যাগুলো শোনা হবে এবং সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।"
লেমুর চুরির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, "লেমুরটি অবৈধভাবে আনা হয়েছিল। পরে সেটি সাফারি পার্ক থেকে চুরি হয়ে যায়।" এ বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, "আম্বানির চিড়িয়াখানার দুটি লেমুর সেখান থেকে নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে সাফারি পার্ক থেকে দুটি লেমুর চুরি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত।" তিনি জানান, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
বনের জমিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, "দেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে গড়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ বসবাস করেন। প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ মানুষ চাকরির বাজারে প্রবেশ করেন।" তিনি উল্লেখ করেন যে, "তাহলে চাইলেই শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব নয়।" বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, আগে থেকে গড়ে ওঠা যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দখলে বনের জমি রয়েছে, সেগুলো উদ্ধারে মামলা করা হয়েছে। তবে এ-সংক্রান্ত অন্যান্য জটিলতাও রয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, "সরকারি সমীক্ষা অনুযায়ী, গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের ভেতরে ৪৬৫ একর জমির মালিকানা সাধারণ মানুষের।" তিনি জানান, বনের ভেতরে এসব জমি থাকায় মালিকেরা সেখানে যেতে পারছেন না কিংবা নিজেদের জমি ব্যবহার করতে পারছেন না। অন্যদিকে, এলাকায় জনবসতি গড়ে উঠলেও প্রয়োজনীয় সড়ক নির্মাণ করা যাচ্ছে না।
এসব সমস্যা সমাধানে আইন বিশেষজ্ঞ, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে চলতি মাসের মধ্যে বৈঠক করা হবে বলে জানান পরিবেশমন্ত্রী।
এর আগে, মন্ত্রী গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান পরিদর্শন করেন। পরে তিনি সাফারি পার্ক পরিদর্শনে যান।
এ সময় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসাইন চৌধুরী, ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বশিরু-আল-মামুন, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম. কে. এম. ইকবাল হোছাইন চৌধুরীসহ বন বিভাগের কর্মকর্তা ও স্থানীয় বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন