প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা একাডেমি, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এবং দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)-এর মধ্যে পৃথক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই সমঝোতার উদ্দেশ্য হলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত মৌলিক পাঠ্যবই প্রণয়ন, গবেষণালব্ধ, একাডেমিক ও অনুবাদধর্মী প্রকাশনা কার্যক্রমকে জোরদার করা।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় আলাদা আলাদা অনুষ্ঠানে এসব সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। দুপুরে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের কনফারেন্স হলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এএসএম আমানুল্লাহ এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক প্রফেসর মোহাম্মদ আজম সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
এর আগে রাজধানীর ফার্মগেটের আরএইচ হোম সেন্টারে দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর আমানুল্লাহ এবং ইউপিএলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মাহরুখ মহিউদ্দীন স্বাক্ষর করেন।
তৃতীয় সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয় রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) কার্যালয়ে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর আমানুল্লাহ এবং পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ এতে স্বাক্ষর করেন।
এই সমঝোতাগুলোর ফলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকদের একাডেমিক এবং গবেষণাকর্ম বই আকারে প্রকাশের সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে। বাংলা একাডেমির সাহিত্য, ভাষা ও গবেষণাভিত্তিক প্রকাশনা-অভিজ্ঞতা, পিআইবির সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমবিষয়ক প্রকাশনা দক্ষতা এবং ইউপিএলের আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একাডেমিক প্রকাশনা অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন বই ও গবেষণাধর্মী প্রকাশনা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য বই প্রকাশ নয়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে গবেষণা, অনুবাদ, জ্ঞানচর্চা ও একাডেমিক প্রকাশনার একটি শক্তিশালী পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এর ফলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর কাছে নির্ভরযোগ্য ও মানসম্মত জ্ঞানভিত্তিক উপকরণ পৌঁছানোর পাশাপাশি শিক্ষক-গবেষকদের সৃজনশীল ও গবেষণা দিয়ে প্রকাশনা তৈরি করা সহজ হবে।
সমঝোতা স্বাক্ষর বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আমানুল্লাহ মন্তব্য করেন, "আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় ৪ হাজার কোর্স চালু থাকলেও মানসম্মত মূল পাঠ্যবইয়ের চরম সংকট রয়েছে। এমনকি ১০টি ভালো মৌলিক পাঠ্যবই খুঁজে পাওয়াও কঠিন। একটি করে পাঠ্যবই প্রকাশ করা হলে ৪ হাজার বই প্রকাশ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সুনির্দিষ্ট প্যাডাগোজি বা শিক্ষণপদ্ধতিও গড়ে ওঠেনি।"
তিনি আরও বলেন, "বাজারে এখন নিম্নমানের গাইড বইয়ের সয়লাব। এর ফলে শিক্ষার্থীরা প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় মূল পাঠ্যবই থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিজেই মানসম্মত মৌলিক পাঠ্যবই তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।"
ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, "একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মান শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান দিয়ে নির্ধারিত হয় না; মানসম্মত পাঠ্যবই, গবেষণা এবং জ্ঞানভিত্তিক প্রকাশনাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সেই জায়গাটিকে শক্তিশালী করতে কাজ করছে। বাংলা একাডেমি, পিআইবি ও ইউপিএলের সঙ্গে এই সহযোগিতা আমাদের সেই উদ্যোগকে আরও কার্যকর ও টেকসই করবে।"
সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনা ও বিপণন দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. ফারুক আহম্মেদসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন