প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ ব্যাংক লাইসেন্সধারী মানি চেঞ্জারদের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার কাস্টডিয়াল হিসাব বা নিরাপদ সংরক্ষণ হিসাবের সুবিধা চালুর সুযোগ প্রদান করেছে, যা বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আরও নিরাপদ ও সহজ করবে। অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো এখন থেকে এই হিসাব সুবিধা দিতে পারবে। এসব হিসাবের মাধ্যমে নির্ধারিত সীমার বাইরে বৈদেশিক মুদ্রা জমা রাখার সুযোগ থাকবে। তবে জমার পরিমাণ নির্ধারণের জন্য মানি চেঞ্জারের ব্যবসার লেনদেন ও কার্যক্রমের ধরনকে বিবেচনায় নিতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ বুধবার (৪ নভেম্বর) একটি সার্কুলার জারি করেছে, যা দেশের সব অনুমোদিত ডিলার ব্যাংক ও লাইসেন্সধারী মানি চেঞ্জারকে নির্দেশনা প্রদান করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, নগদ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, পরিবহনের সময় ঝুঁকি কমানো এবং নিরাপদে বৈদেশিক মুদ্রা স্থানান্তর সহজ করতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো লাইসেন্সধারী মানি চেঞ্জারদের বৈদেশিক মুদ্রার কাস্টডিয়াল হিসাব খুলে দেওয়ার সুযোগ পাবে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, এসব হিসাব কেবল নগদ বৈদেশিক মুদ্রার নোট নিরাপদে সংরক্ষণ, জমা ও উত্তোলনের কাজে ব্যবহার করা যাবে। এগুলোকে কোনোভাবেই সুদবাহী আমানত হিসাব হিসেবে গণ্য করা হবে না, অর্থাৎ এসব হিসাবে বৈদেশিক মুদ্রা জমা রাখলেও তার বিপরীতে কোনো সুদ পাওয়া যাবে না।
সার্কুলারে নির্ধারিত সীমার বাইরে জমার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, প্রচলিত নির্ধারিত সীমা বিবেচনায় না নিয়ে এসব হিসাবে যেকোনো পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা জমা রাখা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে মানি চেঞ্জারের ব্যবসার লেনদেনের পরিমাণ ও ধরনসংক্রান্ত যথাযথ নথিপত্র থাকতে হবে। অর্থাৎ জমার পরিমাণের সঙ্গে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সামঞ্জস্য থাকতে হবে।
দিনের শেষে উদ্বৃত্ত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকে জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। ব্যাংকিং সময়ের মধ্যে এসব মুদ্রা জমা করা যাবে। জমা রাখা অর্থ পরবর্তী কার্যদিবসের সকালে অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী উত্তোলন করা যাবে। তবে উত্তোলনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট হিসাবের স্থিতি থাকতে হবে।
বৈদেশিক মুদ্রা পরিবহনে বীমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক মানি চেঞ্জারদের বৈদেশিক মুদ্রা পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বীমার বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের নির্ধারিত শাখায় বৈদেশিক মুদ্রা আনা-নেওয়ার সময় চুরি, ডাকাতি, হারিয়ে যাওয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি মোকাবিলায় মানি চেঞ্জারদের বৈধ ক্যাশ-ইন-ট্রানজিট (সিআইটি) বীমা থাকতে হবে। তবে এ বীমা সংশ্লিষ্ট পরিবহনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত একক যাত্রার সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
অনুমোদিত ডিলার ব্যাংক নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা পরিবহনের ক্ষেত্রে লাইসেন্সধারী ক্যাশ-ইন-ট্রানজিট সেবা ব্যবহার করতে হবে অথবা নিরাপত্তাকর্মীর পাহারায় পরিবহন করতে হবে। দিনের শেষভাগে জমা দেওয়া বৈদেশিক মুদ্রা নিরাপদে রাখার জন্য ব্যাংকগুলোকে সুরক্ষিত কাউন্টার ও অস্থায়ী ভল্টের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উত্তোলনে থাকছে বিশেষ শর্ত
কাস্টডিয়াল হিসাব থেকে বৈদেশিক মুদ্রা উত্তোলনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো চেক অথবা উত্তোলন স্লিপের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের সুবিধা দিতে পারবে। তবে অর্থ পরিশোধ করতে হবে কেবল মানি চেঞ্জারের যথাযথভাবে অনুমোদিত প্রতিনিধির কাছে।
এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধির স্বাক্ষর, ছবি ও পরিচয়সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য ব্যাংকে সংরক্ষণ করতে হবে। ফলে অনুমোদনহীন কোনো ব্যক্তি এসব হিসাব থেকে বৈদেশিক মুদ্রা উত্তোলন করতে পারবেন না। সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, হিসাবের স্থিতির বেশি অর্থ উত্তোলন করা যাবে না। এসব হিসাবের বিপরীতে কোনো ধরনের ওভারড্রাফট বা ঋণসুবিধা দেওয়া যাবে না। অর্থাৎ হিসাবে যতটুকু বৈদেশিক মুদ্রা জমা থাকবে, সর্বোচ্চ ততটুকুই উত্তোলন করা সম্ভব হবে।
তবে হিসাব পরিচালনা ও নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার জন্য ব্যাংকগুলো যুক্তিসংগত হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ ফি এবং নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনা চার্জ নির্ধারণ করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক ও গ্রাহকের পারস্পরিক সম্পর্ক বিবেচনায় নিতে হবে।
লেনদেনে থাকছে কঠোর নজরদারি
কাস্টডিয়াল হিসাবের অপব্যবহার ঠেকাতে লেনদেন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও কঠোর বিধিনিষেধ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সার্কুলার অনুযায়ী, এসব হিসাবের সব লেনদেন কেবল নগদ বৈদেশিক মুদ্রার নোটের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। এসব হিসাব ব্যবহার করে কোনো ধরনের অর্থ স্থানান্তর, রেমিট্যান্স কিংবা তৃতীয় পক্ষের কাছে অর্থ পাঠানো যাবে না।
এ ছাড়া অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে মানি চেঞ্জারদের হালনাগাদ গ্রাহক পরিচিতি (কেওয়াইসি) তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে দেওয়া মানি চেঞ্জারের লাইসেন্সের বৈধতাও যাচাই করতে হবে।
লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড বা অডিট ট্রেইল সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে লেনদেনের তারিখ ও সময়, বৈদেশিক মুদ্রার নোটের মূল্যমান এবং পরিবহনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য রাখতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন