প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আত্মহত্যা সম্পর্কিত সমাজের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে এটিকে সম্পূর্ণরূপে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও প্রতিরোধমূলক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
তারা উল্লেখ করেন, আত্মহত্যামূলক আচরণকে জনস্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। যদি পরিবারের কোনো সদস্য, বন্ধু, সহপাঠী বা সহকর্মীর মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বা লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে তার প্রতি তাৎক্ষণিক সাড়া দেওয়া, সহানুভূতি প্রকাশ করা, মানসিক যন্ত্রণা প্রশমনে তার অব্যক্ত কথাগুলো শোনা এবং সমস্যার সমাধান বের করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সর্বোপরি, কাউন্সেলিং ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া উচিত। পাশাপাশি আত্মহত্যা প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলনকে আরও জোরদার করতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার, বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর.সি মজুমদার অডিটোরিয়ামে ‘চেঞ্জিং দ্য ন্যারেটিভ অন সুইসাইড’ শীর্ষক একটি সেমিনারে বক্তারা এসব বিষয় তুলে ধরেন।
আত্মহত্যা প্রতিরোধক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ব্রাইটার টুমোরো ফাউন্ডেশন (বিটিএফ)’ এই সেমিনারের আয়োজন করে। দিবসটি উপলক্ষে অনুষ্ঠানের শুরুতে আর.সি মজুমদার অডিটোরিয়ামের সামনে থেকে একটি র্যালি বের হয়। র্যালিটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন ও ডাকসু ভবন হয়ে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়।
সেমিনারে কি-নোট স্পিকার হিসেবে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. ফারজানা রহমান বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী ৭ লাখের বেশি মানুষ আত্মহত্যা করেন। বিশ্বজুড়ে সংঘটিত আত্মহত্যার প্রায় ৭৭ শতাংশ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ঘটে।
তিনি আরও বলেন, সর্বোচ্চ মানের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার সকল মানুষের রয়েছে। আত্মহত্যামূলক আচরণকে জনস্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় মনোযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ব্রাইটার টুমোরো ফাউন্ডেশনের (বিটিএফ) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জয়শ্রী জামান বলেন, প্রচলিত ধারণা পরিবর্তনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন প্রয়োজন। এর মানে হলো এমন বহুমাত্রিক নীতির পক্ষে কথা বলা, যা মানসিক স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেয়, চিকিৎসার সুযোগ বাড়ায় এবং প্রয়োজনে সহায়তা প্রদান করে।
তিনি উল্লেখ করেন, যারা কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, তাদের প্রতি সহানুভূতি ও করুণা জাগিয়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। আত্মহত্যার চিন্তা ও অনুভূতি প্রচণ্ড যন্ত্রণা এবং কষ্টের। আত্মহত্যাপ্রবণ ব্যক্তির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ, তার কথা শোনা এবং সমর্থন দেওয়া অপরিহার্য।
জয়শ্রী জামান আরও বলেন, অধিকাংশ মানুষ জানে না বা বিশ্বাস করে না যে, আত্মহত্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব। প্রচলিত মিথ এবং অসংখ্য ভুল তথ্যের ভিড়ে প্রকৃত সত্য চাপা পড়ে যায়। কেউ আত্মহত্যা করতে চাইলে নানাভাবে সংকেত দেয়। যদি সে সময় তাৎক্ষণিক সাড়া দেওয়া যায়, তাহলে আত্মহত্যা প্রতিরোধ সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের সাবেক শিক্ষাবিদ অধ্যাপক কাজী লুতফুন নেসা, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক কবিতা দিলাওয়ার, বিনির্মাণ সংগঠনের সভাপতি নিলুফার বিলকিস, ইনারহুইল ক্লাব অব ওয়েসিস ঢাকা ডিস্ট্রিক্ট-৩৪৫ এর প্রেসিডেন্ট সাদিয়া জিনাত।
স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি ও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার উপ-প্রধান বার্তা সম্পাদক কবি জুনান নাশিত, বিটিএফের উপদেষ্টা, লেখক, গবেষক ও সংস্কৃতি কর্মী এমিলি জামান। নৃত্য পরিবেশন করেন সৈয়দা তাসফিয়া জাহান সাবা।
ইনারহুইল ক্লাব অব লবেলিয়া ঢাকা ডিসট্রিক্ট-৩৪৫ এর প্রতিনিধি ফাতিমা হাসনাতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সাংবাদিক রাসেল সরকার।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন