প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বনগাঁও আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশে অবাধে চলছে বালু তোলা। ড্রেজার মেশিন দিয়ে সোমবার অভিযোগ উঠেছে যে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। বনগাঁও আশ্রয়ণ প্রকল্পটি আছে খোয়াই নদীর পাশে। প্রকল্পের ঘরে ঠাঁই পেয়েছে ১৬০টি ভূমিহীন পরিবারের।
তবে এখন এই নিরাপদ আশ্রয়টিতে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পাশের এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার কারণে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে যে প্রকল্পের ঘর নদীভাঙনের শিকার হতে পারে।
বঙ্গাঁও এলাকায় এই আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘেঁষে ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু তোলার অভিযোগ ইজারাদারের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতারাও এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত।
অবৈধভাবে বালু তোলার ফলে শুধু আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরই নয়, আশপাশের কৃষিজমিও হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে প্রশাসনের নাকের ডগায় এই কার্যক্রম দীর্ঘ দুই মাস ধরে চলছে, কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। এর ফলে প্রশাসনের ভূমিকাকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, বনগাঁও আশ্রয়ণ প্রকল্প সংলগ্ন এলাকায় খোয়াই নদীতে অন্তত ২৫টি ড্রেজার দিয়ে দিন-রাত বালু তোলা চলছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বালুমহালের সীমানা নির্ধারণ করে সাইনবোর্ড বসানোর কথা থাকলেও এমন কিছু সেখানে দেখা যায়নি। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছে যে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গত দুই মাস ধরে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তারা বলছেন, ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে নদীর তলদেশ থেকে অবাধে বালু তোলার ফলে নদীর পাড় দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে বর্তমান বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের ভাঙনের আশঙ্কায় আতঙ্কিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বাংলা ১৪৩৩ সনের জন্য রাজার বাজার বালুমহালের ইজারা পায় রাহী ট্রেডার্স, যা পরিচালনা করছেন সেলিম মিয়া। আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের দাবি, অবিলম্বে অবৈধ বালু তোলার কার্যক্রম বন্ধ করে তাদের রক্ষা করা উচিত। আইন অনুযায়ী আশ্রয়ণ প্রকল্প, সেতু, কালভার্ট, বাঁধ, রাস্তা, এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা এবং আবাসিক এলাকার অন্তত এক কিলোমিটার দূরত্বে বালু তোলা নিষিদ্ধ। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই আইন অমান্য করে ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে।
বনগাঁও আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা সরদার আ. জলিল অভিযোগ করেন, ‘শুধু নদীর থেকেই নয়, বরং প্রকল্পসংলগ্ন ১৩টি পরিবারের মালিকানাধীন জমি দখল করে বিশাল বালুর ডিপো গড়ে তোলা হয়েছে। একাধিকবার প্রতিবাদ করার পরও আমরা কোনো প্রতিকার পাইনি।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য জরিপে দেখা যায়, আশ্রয়ণ প্রকল্প সংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাবরু মিয়া, জামায়াতের সভাপতি মোস্তফা হোসেন মস্তু এবং আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা আল আমিনসহ বেশ কয়েকজন এই বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা বাবরু মিয়ার মোবাইল ফোনে বারবার কল করা হলেও তিনি তা ধরেননি। অন্যদিকে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা আল আমিন এই বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তবে জামায়াত নেতা মোস্তফা মস্তু অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ‘সরকার নির্ধারিত সীমানার মধ্যেই বালু তোলা হচ্ছে। যদি তীরবর্তী বসতবাড়ির কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয় তাহলে আমরা ক্ষতিপূরণ দেব।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জের সহ-সভাপতি তোফাজ্জল সুহেল বলেন, ড্রেজার দিয়ে বালু তোলার ফলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন যে প্রশাসন যদি ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আশ্রয়ণের পরিবারগুলো মাথা গোঁজার ঠাঁই হারাবে।
চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন, বালুর বিষয়টি এসিল্যান্ড দেখবেন। সব দায়-দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌফিক আনোয়ার জানান, শিগগির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আবুল হাসেম বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অনিয়মের প্রমাণ মিললে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ বলেন, ‘কিছুদিন আগে বনগাঁও এলাকা পরিদর্শন করেছি। তখন সব ঠিক ছিল। যদি আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘেঁষে ইজারাদার বালু তোলেন, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন