প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজবাড়ীতে কলেজ ছাত্র চৌধুরী ফুয়াদ হাসান (রোহান) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ এবং ৩ জন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন, রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের বক্তারপুর গ্রামের মোঃ দুলাল সরদারের ছেলে ফিরোজ সরদার বাবু (৩৪), মোঃ গনি সরদারের ছেলে মোঃ রিয়াজ সরদার (২৩), এবং সমেসপুর গ্রামের মোঃ সিদ্দিক মন্ডলের ছেলে মোঃ শরীফ (২৭)। এদিকে, উত্তেজিত জনতা রোহান হত্যার বিচার দাবীতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং আলাল সরদার, লাল চাঁদ সরদার ও ফিরোজ সরদারের বাড়ীতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
শনিবার দুপুরে রাজবাড়ী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রাজবাড়ী পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন জানান, রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের ধুলদী রঘুনাথপুর গ্রামের মৃত রোকন উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে মোঃ ফরহাদ চৌধুরী গত ০৫ অক্টোবর বিকাল ৪টার সময় এজাহার দায়ের করেন। তিনি জানান, তার ছেলে চৌধুরী ফুয়াদ হাসান (রোহান) অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মোবাইল ফোন কল পেয়ে রাজবাড়ী জেলার দাদশী ইউনিয়নের ধুলদী রঘুনাথপুর নিজস্ব বসতবাড়ী থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। এ ঘটনার পর তার পরিবার গত ০৬ অক্টোবর রাজবাড়ী সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-২৯১) করেন।
এরপর, গত ০৮ অক্টোবর বিকাল ৫টার সময় দাদশী ইউনিয়নের পাকুড়িকান্দা গ্রামের দিলীপ সেনের পরিত্যক্ত ডোবা থেকে বস্তাবন্দী ও পেট কাটা মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মোঃ ফরহাদ চৌধুরী বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। রাজবাড়ী সদর থানায় গত ০৯ অক্টোবর মামলা রুজু হয়। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং দাদশী ইউনিয়নের অধিবাসীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, নিখোঁজ সংবাদ পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়ে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তদন্ত শুরু করে এবং বিশ্বস্ত সোর্স নিয়োগ করে। এরই ধারাবাহিকতায় তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজবাড়ী সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি বিশেষ চৌকস আভিযানিক দল রাজবাড়ী জেলার দাদশী ইউনিয়ন ও তার আশেপাশের এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোর ৪টার সময় ফিরোজ সরদার বাবু, মোঃ রিয়াজ সরদার, মোঃ শরীফ মন্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করে। পুলিশ সুপার আরও জানান, প্রাথমিকভাবে জানা যায়, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতা ও পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডেকে নিয়ে গামছা ও টি-শার্ট দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। লাশ যেন ভেসে না উঠে, সেজন্য ধারালো চাকু দিয়ে পেট কেটে আলামত লোপাট ও লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে বস্তাবন্দী করে বালু ভর্তি বস্তা বেঁধে পরিত্যক্ত ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের দেখানো মতে ফুয়াদ হাসান (রোহান) হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও গামছা ফিরোজ সরদার বাবুর শয়নকক্ষ থেকে, শ্বাসরোধের কাজে ব্যবহৃত কালো টি-শার্ট মোঃ রিয়াজ সরদারের শয়নকক্ষ থেকে এবং রোহানের পরিহিত স্যান্ডেল দাদশী ইউনিয়নের বক্তারপুর এলাকায় বিনয় কুমার দাসের পুকুরের কচুরিপানার মধ্যে থেকে উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফয়জুর রহমান জানান, হত্যার ঘটনায় ৩টি বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। জেলা পুলিশের সদস্য, ফায়ার সার্ভিসসহ আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন