প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ সফরে টেস্ট সিরিজ জিতে ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি আগ্রহী।
আর্থিক সংকট, উন্নয়ন কার্যক্রম এবং প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কারণে সম্প্রতি ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের কেন্দ্রীয় চুক্তির পারিশ্রমিক ২৫ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
স্যামি মনে করেন, যদি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) চলতি চক্রটি ভালোভাবে শেষ করা যায়, তাহলে বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করার সময় ক্রিকেটারদের দর-কষাকষির ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে আজ স্যামি মন্তব্য করেন, “ভারত সিরিজে খেলোয়াড়দের বেতন কমানোর খবর জানানো হলে তারা যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে এবং যেভাবে খেলেছে, তা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করার ক্ষেত্রে তাদের দৃঢ়তা, আবেগ ও আন্তরিকতার প্রমাণ দেয়।”
তিনি আরও বলেন, “একজন পেশাদার খেলোয়াড় কিংবা একটি বোর্ড হিসেবে আমাদের বর্তমান অবস্থান বুঝতে হবে। আর্থিকভাবে আমরা কোন অবস্থায় আছি, তা সবার জানা।”
এক সময় বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে পরিচিত ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু উজ্জ্বল পারফরম্যান্স ছাড়া দলের ক্রিকেটের মান ক্রমাগত নিম্নমুখী হয়েছে।
বর্তমান ডব্লিউটিসি চক্রে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অষ্টম স্থানে রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। আগের চক্রেও ক্যারিবীয়রা অষ্টম স্থানে থেকে অভিযান শেষ করেছিল।
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজটি চলতি চক্রে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ সিরিজ। স্যামি এই সিরিজ থেকে পয়েন্ট তালিকায় অবস্থান উন্নত করার সুযোগ দেখছেন।
তিনি বলেন, “আমার খেলোয়াড়দের প্রতি বার্তা হলো, বিশেষ করে এই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে শীর্ষ পাঁচে থাকতে পারলে বাড়তি প্রণোদনা পাওয়া যাবে। আর্থিক পুরস্কারের ক্ষেত্রে আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করেছে। গত দুই চক্রে অষ্টম স্থানে থাকা আমাদের খেলোয়াড়দের সামনে এবার আরও ওপরে ওঠার সুযোগ রয়েছে।”
স্যামি মনে করেন, মাঠে ভালো পারফরম্যান্স প্রদর্শন করলে স্পনসরদেরও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ বাড়বে।
তিনি বলেন, “মাঠে ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজেদের এমন অবস্থানে নিয়ে যাওয়াই খেলোয়াড়দের প্রতি আমার চ্যালেঞ্জ, যাতে আমরা আরও ভালোভাবে দর-কষাকষি করতে পারি এবং স্পনসর আকৃষ্ট করতে পারি। ভারতের বিপক্ষে আমাদের সাদা বলের দল দারুণ করেছে। আশা করি, বাংলাদেশে লাল বলের দলও একই কাজ করতে পারবে।”
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের অবনতি ঘটলেও বিভিন্ন সংস্করণে দলটির পারফরম্যান্সে আশার কিছু দিক রয়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত তারা কোনও টেস্ট সিরিজ হারেনি। সম্প্রতি ভারতের মাটিতে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজেও স্বাগতিকদের সঙ্গে সমানে লড়াই করেছে ক্যারিবীয়রা।
তবে বাংলাদেশের মাটিতে স্বাগতিকদের মোকাবিলা করা কঠিন হবে, সেটি স্যামি জানেন। তিনি মনে করেন, সাম্প্রতিক সাফল্য বাংলাদেশ সিরিজেও ভালো করতে দলকে অনুপ্রাণিত করবে।
স্যামি বলেন, “আমরা জানি, বাংলাদেশ ভালো ক্রিকেট খেলছে। তবে আমরাও এ বছর ভালো খেলেছি। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করার সময় নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে আমরা সৎ ও বাস্তববাদী ছিলাম। এখন আমরা ঠিক সেই অবস্থানেই রয়েছি, যেখানে থাকার প্রত্যাশা করেছিলাম।”
তিনি আরও বলেন, “আগামী দুটি টেস্ট আমাদের সামনে দারুণ সুযোগ এনে দিয়েছে। ২০২৫ সালে যে লক্ষ্য নিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের যাত্রা শুরু করেছিলাম, সেটি পূরণের মধ্য দিয়ে এই চক্র শেষ করতে চাই।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন