প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সম্ভাব্য ইরানি হামলার আশঙ্কার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে বিমান পরিবর্তন করেছেন। সম্প্রতি তিনি তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলন শেষে দেশে ফেরার পথে তাঁর যাত্রাবহরের বিমান বদলাতে বাধ্য হন, যা গোয়েন্দা সতর্কবার্তার ভিত্তিতে হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আঙ্কারা ত্যাগের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প তুলনামূলক পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে আরোহণ করেন, যা নতুন মডেলের বোয়িং ৭৪৭-৮-এর বদলে নেওয়া হয়েছে। কাতার সরকারের উপহার হিসেবে পাওয়া ওই নতুন বিমানটিতে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা ছিল না, তাই নিরাপত্তার স্বার্থেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। মার্কিন এবং আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সূত্রগুলোর দাবি, ইরানি প্রক্সি বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জীবন নিয়ে সুনির্দিষ্ট এবং বিশ্বাসযোগ্য হুমকি ছিল।
এই বিমান বদলানোর ঘটনা ঘটে এমন এক সময়ে, যখন ইসরায়েলের পক্ষ থেকে মার্কিন গোয়েন্দাদের কাছে দাবি করা হয় যে ইরান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যা করার পরিকল্পনা করতে পারে। যদিও কিছু মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের জন্য উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই ইসরায়েল এই গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছে।
গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সামরিক কমান্ডার ও কর্মকর্তা নিহত হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে একটি লক্ষ্যভিত্তিক বিমান হামলায় নিহত হন দেশটির দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। পরবর্তীতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে তিনি ইরানের হিটলিস্টে রয়েছেন এবং তাঁর ওপর হামলা হলে ইরানের বিরুদ্ধে হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার হুমকি দিয়েছেন।
অন্যদিকে, নিহত নেতার ছেলে এবং ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খেমেনি গত মাসে তাঁর বাবার মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। যদিও তিনি সরাসরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করেননি, তবুও জানাজা এবং বিভিন্ন প্রতিবাদ সমাবেশে সাধারণ ইরানি নাগরিকদের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায় এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন