প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেতা আসাদুজ্জামান খোকনকে মারধরের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তরের অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লোডশেডিং ও সরকারের সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন আসাদুজ্জামান খোকন।
গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিপুর রাজবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আসাদুজ্জামান খোকন নাসিরনগর উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে একটি দলীয় ভ্রমণ ও বনভোজনের অংশ হিসেবে আসাদুজ্জামান খোকন হরিপুর রাজবাড়িতে যান। সেখানে তিনি নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে আসেন। পরে দুপুরের দিকে তিতাস নদীতে গোসল করার সময় একদল লোক তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর তাকে রাজবাড়ির একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। একপর্যায়ে তাকে নাসিরনগর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আসাদুজ্জামান খোকনের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের দাবি, হামলার সময় তাকে মারধর করা হলে একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে পুলিশ তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়।
এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান খোকনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ করে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লোডশেডিং ও সরকারি দলের সমালোচনা করায় তার ওপর হামলা করা হয়েছে। তার দাবি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নান বিএনপির নেতাকর্মীদের দিয়ে এ হামলা করিয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাকে হত্যার চেষ্টা করেছিল, তবে তা ব্যর্থ হয়েছে।
আসাদুজ্জামান খোকন বলেন, “আমি যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে যাব।”
তবে হামলার সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কে এম বশির উদ্দিন। তিনি বলেন, স্থানীয়দের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এর সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কিছু মানুষ আসাদুজ্জামান খোকনের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। এর জের ধরে তাকে মারধর করা হয়ে থাকতে পারে। একদল লোক তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে চলে যায়। বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
ওসি আরও জানান, আসাদুজ্জামান খোকনের বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা বা অভিযোগ নেই। মারধরের ঘটনায়ও তিনি কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করেননি। পরে তাকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন