প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নিউইয়র্কের ফ্লাশিং মিডোসের কোর্টে আলেকজান্ডার জভেরেভ ইউএস ওপেনের ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরেছেন। অন্তত আগামী এক বছরের জন্য তিনি এই কোর্টের নতুন রাজা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
তবে জভেরেভের জন্য এই জয় শুধুমাত্র আরেকটি গ্র্যান্ড স্লাম নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তার শৈশবের সংগ্রাম, অসুস্থতা এবং মায়ের অদম্য বিশ্বাস।
ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের বেন শেল্টনকে ৬-৩, ৭-৬ (৭-২), ৫-৭, ৬-২ গেমে পরাজিত করে জভেরেভ প্রথমবারের মতো ইউএস ওপেন জিতেছেন। জার্মানির এই টেনিস তারকা মাত্র তিন মাস আগে ফ্রেঞ্চ ওপেনেও জয়লাভ করেছিলেন।
ট্রফি হাতে নেওয়ার পর জভেরেভ বিশেষভাবে তার মা ইরিনা জভেরেভাকে স্মরণ করেছেন। বিলুপ্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের পেশাদার টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত ইরিনা পরে কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন। জভেরেভের টেনিস ক্যারিয়ার গড়ে তোলার পেছনে তার অবদান অপরিসীম।
মাকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ২৯ বছর বয়সী জভেরেভ। তিনি বলেন, ‘আমি এমন একজন মানুষকে ধন্যবাদ দিতে চাই, যিনি আসলে আমার ম্যাচ কখনো দেখেন না। কিন্তু আমার টেনিস ক্যারিয়ার এবং সাধারণ জীবন—দুই ক্ষেত্রেই তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ।’
এরপর জভেরেভ বলেন, ‘চার বছর বয়সে আমার টাইপ-১ ডায়াবেটিস ধরা পড়েছিল। চিকিৎসকেরা তখন বলেছিলেন, এই শিশুর জীবন ও খেলাধুলার সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে যেতে পারে।’
কিন্তু ইরিনা সেই কথা মেনে নেননি। জভেরেভের ভাষায়, ‘এমন পরিস্থিতিতে একজন মায়ের পক্ষে চিকিৎসকের সেই কক্ষ থেকে বেরিয়ে এসে বলা যে, আমার ছেলে যা হতে চায়, সে তা-ই হবে—এটা ভীষণ শক্ত মনের পরিচয়। মা তখন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেছিলেন, অসুস্থতা কখনো আমার জীবনকে সংজ্ঞায়িত করবে না।’
মায়ের সেই বিশ্বাসের কথাই ইউএস ওপেন জয়ের পর আবার মনে করিয়ে দিয়েছেন জভেরেভ। তিনি বলেছেন, ‘আমি খুব খুশি যে আমরা সেই কঠিন সময় একসঙ্গে পার করে এসেছি এবং লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছি। মা যা করেছেন, তা করতে সত্যিই অসাধারণ এক সাহসী নারী হতে হয়।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন