প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার কারণে একজন শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন ধ্বংস করে প্রশংসার পাত্র হয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক নেওয়াজ শরীফ রায়হান।
এটি ঘটেছে (আজ) সোমবার সকাল ১০ টায় কমলগরের তোরাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায় যে, সম্প্রতি বিদ্যালয়টি মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার জন্য একটি নোটিশ জারি করে। নোটিশ অমান্য করে অষ্টম শ্রেণির মিহাদ নামে এক শিক্ষার্থী গোপনে শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ফোন নিয়ে আসে, যা শিক্ষক রায়হানের দৃষ্টিতে পড়ে। শিক্ষক রায়হান তাৎক্ষণিকভাবে আইফোন মডেল -৬ টি উদ্ধার করে সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সামনে বিদ্যালয় মাঠে ভেঙে ফেলেন। এই ঘটনায় সহকারী শিক্ষক নেওয়াজ শরীফ রায়হান প্রশংসিত হচ্ছেন।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জারি করা নোটিশে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন নিয়ে আসা নিষিদ্ধ করার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, 'কোনো শিক্ষার্থীর কাছে মোবাইল ফোন পাওয়া গেলে তা বিনষ্ট করে দেওয়া হবে।' উল্লেখযোগ্য যে, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের নোটিশে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও সু-শৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে সকল শিক্ষার্থীকে নির্ধারিত পোশাক পরিধান করে এবং নিয়ম অনুযায়ী পরিপাটি ও ছোট চুল রেখে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে হবে। একই নোটিশে আবারও উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো শিক্ষার্থীর কাছে মোবাইল ফোন পাওয়া গেলে তা বিনষ্ট করে দেওয়া হবে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, যদি কোনো শিক্ষার্থীর টিকটক আইডি থাকে বা টিকটকে ভিডিও কনটেন্ট তৈরির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারসহ কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
আজ ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার, নোটিশ জারির পর অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর কাছে আইফোন পাওয়া যায়। পরে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নেওয়াজ শরীফ রায়হান ওই ফোনটি ভেঙে দেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পূর্বেই শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট অভিভাবকদের নোটিশের মাধ্যমে অবহিত করায়, ঘটনাটিকে বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় অভিভাবক এবং সচেতন মহল।
বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ এবং মোবাইল ফোনের অপব্যবহার রোধে কর্তৃপক্ষের এই কঠোর অবস্থানকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন অনেকেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে প্রশংসামূলক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
সমর্থকদের মতে, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যখন আগে থেকেই লিখিত নোটিশের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সতর্ক করেছে, তখন নিয়ম অমান্যের ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।
সহকারী শিক্ষক নেওয়াজ শরীফ রায়হান জানিয়েছেন, শৃঙ্খলা রক্ষার্থে একটি ফোন ভেঙে দিয়ে অন্যান্য সকল শিক্ষার্থীদের সতর্ক করেছি। তোরাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিন আহমেদ বাহার জানান, আমরা আগে নোটিশ দিয়ে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক সকলকে সতর্ক করেছি। বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আমাদের এই উদ্যোগ। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর ভূঁইয়া বলেন, খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত বলতে পারবো। এটা আমার জানা নাই।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন