প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্বাস্থ্য মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ডেঙ্গু আর কোনো সাধারণ রোগ নয়; এটি সম্পূর্ণ জাতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জে রূপ নিয়েছে। এই সংকট মোকাবেলা কেবল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা হাসপাতালের দায়িত্ব নয়, বরং দেশের প্রতিটি নাগরিককে এতে সম্পৃক্ত হওয়া প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, ইউনিসেফ বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের সহযোগিতায় আজ রোববার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ড. মিল্টন হলে অনুষ্ঠিত ডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে একটি জাতীয় ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স কার্যক্রমের প্রথম ব্যাচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
মন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, আমি সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসকদের উপর চাপ দিতে পারি এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে বলি। তবে শতভাগ মশা বা লার্ভা ধ্বংস করা সম্ভব কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারি না। মশা ২০০ মিটার পর্যন্ত উড়তে পারে এবং যেকোনো ফাঁকফোকর দিয়ে ঘরে ঢুকে যেতে পারে। এজন্য এটি একটি অত্যন্ত কঠিন লড়াই।
ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে ‘টোটাল ফাইট’ বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি নালা-নর্দমা, ডোবা, জলাবদ্ধ স্থান এবং কচুরিপানাযুক্ত স্থান পরিষ্কার না করলে এই যুদ্ধে জয়ী হওয়া সম্ভব নয়। একক কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির পক্ষে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ।
ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি বিবেচনায় রয়েছে তবে এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং বাস্তবায়ন করা কঠিন। তিনি জানান, যদি ব্যাপক টিকাদানে যেতে হয়, তাহলে বিশাল বাজেট প্রয়োজন হবে। চার মাস পরপর টিকা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা থাকলে দেশের স্বাস্থ্য বাজেটের উপর বিশাল চাপ সৃষ্টি হবে। তাই চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
ডেঙ্গুর বিস্তারের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, শহর ও গ্রামে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকে, যা এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। গ্যারেজে গাড়ি ধোয়ার পর জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত টায়ার, অব্যবহৃত ক্যান, রাস্তার ছোট গর্ত অথবা বড় ড্রেন ও খালে জমে থাকা ময়লাযুক্ত পানিতেও লার্ভার উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, প্রতিরোধ ব্যবস্থা শতভাগ কার্যকর করা কঠিন। তাই আমাদের অধিক গুরুত্ব দিতে হবে সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর। চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্লাজমা লিকেজকে সময়মতো শনাক্ত করা। রোগীর অবস্থা কখন সংকটজনক পর্যায়ে যাচ্ছে, সে বিষয়ে সতর্ক নজর রাখতে হবে।
সোসাইটি অব মেডিসিনের নেতৃত্বে চিকিৎসকদের সঠিক চিকিৎসা প্রটোকল অনুযায়ী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান। আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির বার্তা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
কর্মশালায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এফ. এম. সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের কনভেনর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনির-উজ-জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের হেলথ ম্যানেজার ড. রিয়াদ মাহমুদ। কার্যক্রমটি সামগ্রিকভাবে সমন্বয় করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হালিমুর রশিদ। এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানে বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে প্রতি মুহূর্তে সতর্ক থাকা জরুরি। নিয়মিত সিবিসি পরীক্ষা এবং প্লাজমা লিকেজ পর্যবেক্ষণ করে রোগীর অবস্থা মূল্যায়ন করতে হবে। প্লাজমা লিকেজ বেড়ে গেলে রোগী দ্রুত শক অবস্থায় চলে যেতে পারে, যা জীবনহানির ঝুঁকি সৃষ্টি করে।
বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনায় এবার ‘রিঅ্যাকটিভ’ নয়, বরং ‘প্রো-অ্যাকটিভ’ কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থাৎ সমস্যা বড় আকার ধারণ করার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন