প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের ছত্তিশগড়ের রায়পুরে প্রেমের টানাপোড়েন ও সম্পর্কের বিরোধের ফলে ঘটেছে এক নৃশংস ও রোমহর্ষক ঘটনা।
অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (এআইআইএমএস) হাসপাতালের সামনে চলন্ত গাড়ির ছাদে চেপে প্রেমিকাকে থামানোর চেষ্টা করেও ৩৪ বছর বয়সী এক যুবক তার জীবন বাঁচাতে পারলেন না। গাড়িটি থামানোর পরিবর্তে, উল্টো প্রচণ্ড গতিতে চলতে থাকা গাড়ি থেকে ফেলে দেওয়া হয় তাকে এবং চাকার নিচে পিষে হত্যা করে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গত বুধবার রায়পুরের আমানাকা থানা এলাকায় মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত যুবকের নাম পরমপ্রীত সিং। তিনি তাতিবন্ধ এলাকার উদয় সোসাইটির ৪ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ঘটনার সময় একটি তরুণী গাড়িতে করে এআইআইএমএস হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে পরমপ্রীতের সঙ্গে তার ও তার পুরুষ সঙ্গীর মধ্যে তীব্র তর্কাতর্কি ও বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
তর্কাতর্কির একপর্যায়ে তরুণীটি দ্রুত গাড়িতে উঠে পড়ে এবং গাড়ি নিয়ে দ্রুত জায়গা ত্যাগ করার চেষ্টা করতে থাকে। তখন পরমপ্রীত রক্ষা পাওয়ার জন্য গাড়িটির ছাদে উঠে পড়েন এবং ছাদ আঁকড়ে ধরেন। কিন্তু চালক গাড়ি থামানোর পরিবর্তে চরম বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাতে থাকে।
কিছুদূর যাওয়ার পর চলন্ত গাড়ির ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান পরমপ্রীত। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের তথ্যমতে, ছাদ থেকে পড়ার পর চালক গাড়িটি থামানোর বিন্দুমাত্র চেষ্টা না করে পরমপ্রীতের শরীরের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে চলে যায়। পরমপ্রীত সিংয়ের ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে।
ঘটনার পর পুলিশি তদন্তে জানা যায়, ছত্তিশগড়ের দুর্গ এলাকার বাসিন্দা ভারত মাঙ্গনানি নামের এক ব্যক্তি সহ পরমপ্রীতের আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। প্রাথমিক তদন্ত, প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ এবং ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত সাক্ষ্যপ্রমাণের ওপর ভিত্তি করে अमानाका থানা পুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) ১০৩ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট তরুণীকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে এবং তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের বিশেষ একাধিক টিম গঠন করে অভিযান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনার সত্যতা এবং সুনির্দিষ্ট গতিপথ উদ্ঘাটনে পার্শ্ববর্তী এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ এবং অন্যান্য প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি নথিভুক্ত করছে পুলিশ।
সূত্র: এনডিটিভি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন