প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : যুক্তরাজ্য সরকারের রপ্তানি ঋণ সংস্থা ‘ইউকে এক্সপোর্ট ফাইন্যান্স’ (ইউকেইএফ) জানিয়েছে যে, বাংলাদেশি ক্রেতাদের জন্য যুক্তরাজ্যের পণ্য ও সেবা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ২০০ কোটি পাউন্ড (প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকা) পর্যন্ত অর্থায়ন সহায়তার সুযোগ রয়েছে।
সংস্থাটি উল্লেখ করেছে যে, বাংলাদেশে পরিবহন, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, বিমানবন্দর উন্নয়ন, উৎপাদন শিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং ভৌত অবকাঠামোসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে এই অর্থায়ন সুবিধা পাওয়া যাবে।
আজ ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ইউকেইএফ চলতি সপ্তাহে সরকারি প্রতিনিধি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছে যাতে বাংলাদেশে এই অর্থায়নের সুনির্দিষ্ট সুযোগগুলো সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো যায়।
বাংলাদেশে ১০০ কোটি থেকে ২০০ কোটি পাউন্ড পর্যন্ত অর্থায়নের সক্ষমতা রয়েছে ইউকেইএফ-এর। এর আওতায় যোগ্য বাংলাদেশি ক্রেতা ও প্রতিষ্ঠানসমূহ যুক্তরাজ্যের পণ্য ও সেবাসংশ্লিষ্ট প্রকল্পের জন্য অর্থায়ন সুবিধা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
যুক্তরাজ্যের সরবরাহকারীদের সম্পৃক্ততা রয়েছে এমন প্রকল্পগুলোর জন্য প্রতিযোগিতামূলক অর্থায়নের সুযোগ তৈরিতে ইউকেইএফ বিভিন্ন ধরনের সুবিধাদি প্রদান করে, যেমন আর্থিক গ্যারান্টি, ঋণ এবং বিমা।
বিশ্বজুড়ে ৬০টিরও বেশি স্থানীয় মুদ্রায় এই সুবিধা প্রদান করা সম্ভব। দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন কাঠামোর মধ্যে রয়েছে বায়ার ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি, স্ট্যান্ডার্ড বায়ার লোন গ্যারান্টি, ডাইরেক্ট লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি এবং আর্লি প্রজেক্ট সার্ভিসেস গ্যারান্টি।
যুক্তরাজ্যের একটি প্রতিনিধিদল বর্তমানে (২ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সফর করছে সম্ভাব্য প্রকল্প ও পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করার জন্য। সফরের সময় প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশ সরকার, বিভিন্ন ব্যাংক এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছে।
বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাজ্যের আধুনিক প্রযুক্তি, ব্যাংকিং দক্ষতা ও অর্থায়ন কীভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়গুলো এসব বৈঠকে গুরুত্ব পাচ্ছে।
প্রতিনিধিদলে রয়েছেন দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাজ্যের ট্রেড কাউন্সেলর মার্ক বিরেল; ভারত, বাংলাদেশ ও নেপালের জন্য ইউকে এক্সপোর্ট ফাইন্যান্সের কান্ট্রি হেড সন্দীপ কুদতারকার এবং দক্ষিণ এশিয়ার ট্রেড পলিসি প্রধান রোহিনী আগারওয়াল।
সফরের অংশ হিসেবে প্রতিনিধিদলটি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ, এইচএসবিসি ও আইসিসি বাংলাদেশের মতো খ্যাতনামা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী সংগঠনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হচ্ছে।
এই আলোচনাগুলোতে ইউকেইএফ-এর অর্থায়ন কীভাবে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর আর্থিক চাহিদা পূরণে সহায়ক হতে পারে এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাজ্যের ট্রেড কাউন্সেলর মার্ক বিরেল মন্তব্য করেছেন, “যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে অত্যন্ত সুদৃঢ় ও দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। এই সফরের মাধ্যমে আমরা সরকার ও দেশের ব্যবসায়ী নেতাদের কাছ থেকে সরাসরি অভিজ্ঞতা ও মতামত শোনার সুবর্ণ সুযোগ পাচ্ছি।”
তিনি যোগ করেছেন, “একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান, উন্নত প্রযুক্তি ও অর্থায়ন কীভাবে বাংলাদেশে উদ্ভাবন, টেকসই প্রবৃদ্ধি ও সার্বিক উন্নয়নে সহায়তা করতে পারে—আমরা সেই সম্ভাবনাগুলো গভীরভাবে খতিয়ে দেখছি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন