প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গাড়িবহরের দিকে কাঁচের বোতল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। ৭৭তম জন্মদিন উপলক্ষে জেরুজালেমের মাহানে ইহুদা বাজারে যাওয়ার পথে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে এই ঘটনা ঘটে। তবে এই ঘটনায় কেউ আহত হয়নি। গাড়িবহরটি থামেনি এবং গন্তব্যের দিকে চলে যায়। পরে নিরাপত্তাকর্মী ও পুলিশ সদস্যরা বোতল নিক্ষেপকারীকে শনাক্ত করার জন্য আশপাশে তল্লাশি চালান। খবরটি টাইমস অব ইসরাইল ও অন্যান্য ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
নেতানিয়াহুর জন্মদিন উপলক্ষে মাহানে ইহুদা বাজারে পৌঁছানোর পর তাঁর ও স্ত্রী সারার প্রতি সমর্থকেরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। সেখানে লিকুদ পার্টির সমর্থকেরা তাঁকে স্বাগত জানান। কিন্তু সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের মধ্যেই গাড়িবহরের দিকে বোতল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে বৃহস্পতিবার তেল আবিবের হাতিকভা বাজার পরিদর্শনকালে নেতানিয়াহু তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদের সম্মুখীন হন। সেখানে এক ব্যক্তি তাঁকে হামাসকে অর্থ দেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রশ্ন করেন। ওই ব্যক্তি ঘটনাটি মুঠোফোনে ধারণ করতে গেলে লিকুদ পার্টির কয়েকজন সমর্থক তাঁর ফোন কেড়ে নেন এবং তাঁকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন, এমনটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেখানে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় স্বজন হারানো এবং জিম্মি সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন জিম্মি অবস্থায় নিহত গায় ইলুজের বাবা মিশেল ইলুজ, নিহত জিম্মি কারমেল গাতের কাজিন গিল দিকমান এবং সাবেক জিম্মি মাতান জাঙ্গাউকারের মা আইনাব জাঙ্গাউকার। তাঁরা ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তাব্যর্থতার দায় নিয়ে নেতানিয়াহুসহ তৎকালীন দায়িত্বশীলদের পদত্যাগের দাবি জানান।
প্রতিবাদের সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আইনাব জাঙ্গাউকারের অভিযোগ, তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়, থুথু নিক্ষেপ করা হয় এবং সবজি ছোড়া হয়। পরে পুলিশ তাঁদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেয়। অন্যদিকে, মিশেল ইলুজের ওপর এক ব্যক্তির শারীরিক হামলার ঘটনাও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। নেতানিয়াহুর সফরকে কেন্দ্র করে বাজারটিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও এসব ঘটনার সময় প্রধানমন্ত্রী সেখানে উপস্থিত ছিলেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মিশেল ইলুজ এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, তাঁর ছেলে গায়কে জিম্মি অবস্থায় হারানোর বিচার ও জবাবদিহির দাবি জানাতেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। একজন শোকাহত বাবার ওপর হামলার ঘটনাকে তিনি লজ্জাজনক বলে উল্লেখ করেন। আগামী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সময় নাগরিকদের তাঁর ছেলের কথা স্মরণ রাখার আহ্বানও জানান তিনি।
এদিকে, জিম্মি পরিবারের সদস্যদের প্রতিবাদ এবং নেতানিয়াহুর সফর ঘিরে সংঘাত ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনকে আবারও সামনে এনেছে। ৭ অক্টোবরের হামলা প্রতিরোধে ব্যর্থতা, জিম্মিদের মুক্তি এবং হামাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা করে আসছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর একাংশ।
জেরুজালেমে গাড়িবহর লক্ষ্য করে বোতল নিক্ষেপের ঘটনা এবং তেল আবিবের বাজারে প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে সংঘাত—দুই ঘটনাই নেতানিয়াহুর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত সফরকে আলোচনায় এনেছে। তবে বোতল নিক্ষেপের পেছনে কারা জড়িত, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন