প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সৃজনশীল অর্থনীতিতে জোর দিচ্ছে সরকার। সরকার জিডিপিতে এই খাতের অবদান দেড় শতাংশ নিশ্চিত করতে চায়। এজন্য প্রস্তাবিত বাজেটে চলচ্চিত্র, সংগীত, নাটকসহ বিভিন্ন খাতে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টরা এই ধরনের উদ্যোগ কেবল কাগজ-কলমের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সঠিক বাস্তবায়ন চান। অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশি পণ্য-সেবার আন্তর্জাতিক বাজারে কদর বাড়বে।
বছরের পর বছর ধরে কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধিতে বৈচিত্র্যময়তা আনার তাগিদ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তা আলোচনায়ই সীমাবদ্ধ ছিল। অবশেষে সেই সুযোগ বড়ানোর জন্য এবার সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে জোর দিচ্ছে সরকার।
কৃষি, শিল্প, প্রবাসী আয় নির্ভর অর্থনীতির পাশে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের উত্থাপিত বাজেটে ক্রিয়েটিভ ইকনোমির জন্য ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল থেকে আরও ৫০০ কোটি টাকা যুক্ত হবে।
সৃজনশীল অর্থনীতিতে রয়েছে এমন পণ্য ও সেবা, যেখানে মূল সম্পদ হিসেবে সৃজনশীলতা ও বুদ্ধিবৃত্তিকে ধরা হয়। সেই মেধাভিত্তিক চর্চাকে গুরুত্ব দিয়ে চলচ্চিত্র, সংগীত, নৃত্য, নাটক, প্রকাশনা, বিজ্ঞাপন, স্থাপত্য, শিল্পকলা, কারুশিল্প, নকশা, সফটওয়্যার ও ভিডিও গেমসের মতো এ খাত থেকে জিডিপিতে অবদান ১ দশমিক ৫ শতাংশের উন্নীত করার পরিকল্পনা সরকারের।
এ খাতের বিকাশে পূর্বাচলে ১০০ একর জমির ওপর একটি কেন্দ্রীয় ক্রিয়েটিভ হাব ও জেলা-উপজেলায় গড়ে তোলা হবে আঞ্চলিক ক্রিয়েটিভ হাব। প্রশিক্ষণ ও হস্তশিল্পভিত্তিক সৃজনশীল কেন্দ্র বিসিকের মাধ্যমে স্থাপন করা হবে। 'একটি গ্রাম, একটি পণ্য' উদ্যোগের আওতায় মৃৎশিল্প, শীতলপাটি, টেরাকোটাসহ ঐতিহ্যবাহী পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে কাজ করবে সরকার।
পৌরাণিকের উদ্যোক্তা লুবনা জাহান বলেন, "কতটুকু উপকৃত হবো এখনই বলা সম্ভব না। এই টাকাটা বরাদ্দ করাই শেষ না। বরাদ্দ করার পর কোথায় কোথায় খরচ করা হবে। কাকে কাকে কীভাবে কাজটা দেওয়া যায়। সঠিকভাবে পৌঁছালেই বুঝবো আমরা সফল।"
খাত সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, কেবল ঘোষণা বা পরিকল্পনায় সীমাবদ্ধ না থেকে কার্যকর বাস্তবায়ন করা গেলে নতুন বিনিয়োগের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।
পর্যটন খাতের প্রসারে নেয়া হবে সমন্বিত পর্যটন মহাপরিকল্পনা।
দ্য বেঙ্গল ট্যুরস লিমিটেডের পরিচালক রফিকুল ইসলাম নাসিম বলেন, "অনেক কিছু বরাদ্দ হয়, কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু অনেক সময় আমরা সেখান থেকে রিটার্ন তুলে আনতে পারি না। সব সময় চ্যালেঞ্জ কাজ করে। সরকার যদি একটি কমিটির মাধ্যমে বিভিন্ন সেক্টর ধরে ধরে যথাযথ মনিটরিং করে, তাহলে আমার মনে হয় খুবই পজিটিভ একটি উদ্যোগ হবে।"
কাঙ্ক্ষিত সুফল পেতে শুধু বরাদ্দে আটকে না থেকে বেসরকারি বিনিয়োগ ও মেধাস্বত্ব সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জোর দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।
অর্থনীতিবিদ ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, "পুরো সেক্টরটাকে যতটুকু সম্ভব ফরমালাইজড করা দরকার। আমরা এখন ভর্তুকি দিচ্ছি। কিন্তু ফরমালাইজডের মাধ্যমে যদি করতে পারি এবং পরবর্তীতে সরকার যদি কিছু রাজস্ব আদায় করতে পারে, তাহলে এটা ভালো একটা দিক।"
সিপিডির সম্মনীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ভালো, তাদেরকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে ভালো, উৎসাহিত করা হয়েছে ভালো। আমরা আশা করি আগামীতে এই ধরনের পরিবেশ থাকবে যেখানে এসব কর্মকাণ্ডকে উৎসাহ দেয়া হবে এবং সামাজিকভাবে স্বীকৃতি দেয়া হবে।"
তথ্য বলছে, বিশ্বব্যাপী সৃজনশীল অর্থনীতির বাজার প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার। আর এ খাতে কর্মরত রয়েছে প্রায় ৫ কোটির বেশি মানুষ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন