প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এমআর ট্রেডার্সের গুদাম সিলগালা করেছে, কারণ প্রতিষ্ঠানটি বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শন করতে পারেনি।
রবিবার (১ নভেম্বর) গোপন তথ্যের ভিত্তিতে টানবাজারে এমআর ট্রেডার্সের গুদামে অভিযান পরিচালনা করে গোয়েন্দারা। এই অভিযানের সময় সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইটসহ প্রায় ৮১ দশমিক ৬ টন কেমিক্যাল ও অন্যান্য কাঁচামাল মজুদ অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে প্রতিষ্ঠানটি এসব পণ্যের ক্রয়, আমদানি বা বৈধভাবে মজুদের কোন কাগজপত্র দেখাতে সক্ষম হয়নি। এর ফলস্বরূপ গুদামটি সিলগালা করা হয়।
একই দিনে সিম ফেব্রিক্স লিমিটেডেও অভিযান চালানো হয় কাস্টমস গোয়েন্দাদের পক্ষ থেকে। প্রতিষ্ঠানটি ১৭ অক্টোবর বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-১২৯৩৪৮২-এর মাধ্যমে ভারত থেকে বন্ড সুবিধায় ৪৫ টন সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইট আমদানি করে। কিন্তু অভিযানের সময় তারা আমদানি করা কেমিক্যালের মজুদ বা অবস্থান প্রদর্শন করতে পারেনি।
কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্ত আমদানি করা কাঁচামাল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু সিম ফেব্রিক্সের আমদানি করা কেমিক্যালের হদিস না পাওয়া এবং এমআর ট্রেডার্সের গুদামে বিপুল পরিমাণ কেমিক্যালের বৈধ কাগজপত্র অনুপস্থিত হওয়ায় বিষয়টি সন্দেহজনক হয়ে উঠেছে।
তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কেমিক্যাল উৎপাদনে ব্যবহার না করে খোলাবাজারে বিক্রি করা হয়েছে কিনা, সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সিম ফেব্রিক্সের আমদানি করা কেমিক্যালের সঙ্গে এমআর ট্রেডার্সের গুদামে পাওয়া পণ্যের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
এছাড়া, গুদামে পাওয়া কেমিক্যালের উৎস, আমদানি ও ক্রয়-বিক্রয়ের তথ্য এবং বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের বিষয়টি যাচাই করছেন গোয়েন্দারা। এতে সরকারের কতটুকু রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণের কাজও চলছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, শুল্কমুক্ত কাঁচামালের অবৈধ বাজারজাতকরণ ও রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন