প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দমদম বিমানবন্দরের ভেতরে অবস্থিত গৌরীপুর জামে মসজিদ, যা ১৩৬ বছরের পুরোনো এবং স্থানীয়দের কাছে বাঁকড়া মসজিদ নামে পরিচিত, সেটির স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণ এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে শনিবার থেকে মসজিদে প্রবেশের বিশেষ অনুমতি বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে নিয়মিত নামাজ আদায়ও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমান অবস্থানে মসজিদটি থাকায় দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে। বড় আকারের উড়োজাহাজ ওঠানামার জন্য এটি একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধান রানওয়ে সংস্কারের সময় বিকল্প রানওয়ে ব্যবহার করতে গিয়ে নানান ধরনের সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে হয়। নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরেই মসজিদ স্থানান্তর নিয়ে আলোচনা চলছিল। তবে বিভিন্ন কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি প্রশাসন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটির মধ্যে একাধিক দফা বৈঠকের পর বিষয়টি নতুন গতি পেয়েছে।
এতদিন বিরাটি মোড়ের দিক থেকে বিমানবন্দরের তিন নম্বর ফটক দিয়ে পরিচয়পত্র দেখিয়ে সাধারণ মানুষ মসজিদে প্রবেশ করতে পারতেন। এরপর বিমানবন্দরের ভেতরে প্রায় আড়াই কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে মসজিদে পৌঁছাতে হতো। শনিবার থেকে সেই বিশেষ প্রবেশের অনুমতি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ফটকের সামনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কেউ অনুমতি ছাড়া ভেতরে প্রবেশ করতে না পারেন।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে একটি বিশেষ দল মসজিদ এলাকা পরিদর্শন করে। এরপর বিমানবন্দর নিরাপত্তা কমিটিও পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে এগোয়। মসজিদ পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকেও ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করা হয়েছে।
তাদের বক্তব্য, বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো বাধা সৃষ্টি করার ইচ্ছা তাদের নেই। তবে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ধর্মীয় মর্যাদা ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব যেন অক্ষুণ্ন থাকে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ মসজিদ কমিটিকে বিমানবন্দরের বাইরে আরও বড় ও আধুনিক একটি নতুন মসজিদ নির্মাণ করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। সেই প্রস্তাব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। নতুন স্থানে সব ধরনের ধর্মীয় কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনার সুযোগ থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের কাছে গৌরীপুর জামে মসজিদ শুধুমাত্র একটি উপাসনালয় নয়, এটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের অংশ। বহু বছর ধরে আশপাশের মানুষ এখানে নিয়মিত নামাজ আদায় করে আসছেন। ফলে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে অনেকের মধ্যে আবেগ কাজ করলেও অধিকাংশই শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে মত দিয়েছেন।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রানওয়ের চারপাশে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা অঞ্চল বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে যাত্রী সংখ্যা এবং উড়োজাহাজ চলাচল আরও বাড়বে। সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। নতুন মসজিদ নির্মাণ, স্থানান্তরের সময়সূচি এবং ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলে তা প্রকাশ করা হবে। আপাতত মসজিদে প্রবেশের অনুমতি বন্ধ থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন