প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বলিউডে দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য দর্শকপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন অভিনেত্রী টাবু। অভিনয়ের দক্ষতা, ব্যতিক্রমী চরিত্র নির্বাচন ও পর্দায় শক্তিশালী উপস্থিতির কারণে তিনি একটি আলাদা অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে পর্দার সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবন নিয়েও বরাবরই আলোচনা চলে এই অভিনেত্রীর। বিশেষ করে ৫৫ বছরে পা দিতে চলা টাবু কেন এখনো বিয়ের বন্ধনে জড়াননি, তা নিয়ে ভক্তদের কৌতূহলের শেষ নেই। তার জীবনে প্রেম এসেছে, সম্পর্কের গুঞ্জনও ছড়িয়েছে। কিন্তু বিয়ের সিদ্ধান্ত তিনি কখনোই নেননি।
টাবুর বিয়ে না করার প্রসঙ্গে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে বলিউড অভিনেতা অজয় দেবগনের নাম। দীর্ঘদিনের বন্ধু অজয়ের সঙ্গে তার সম্পর্কটি বেশ মজার ও খুনসুটিতে ভরা। গত বছর ‘অরোঁ মে কাহাঁ দাম থা’ সিনেমার প্রচারের সময় পুরোনো একটি সাক্ষাৎকারের ভিডিও নতুন করে আলোচনায় আসে। সেখানে টাবুর জন্য কেমন জীবনসঙ্গী প্রয়োজন, এমন প্রশ্নের জবাবে অজয় মজা করে বলেছিলেন, ‘টাবু কো ম্যায় চাহিয়ে, উসকো ও মিল নেহি সাকাতা।’ অর্থাৎ, টাবু তাকেই চান, কিন্তু তাকে পাওয়া সম্ভব নয়!
পরে অবশ্য নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে অজয় জানান, তিনি আসলে তার মতো একজন বন্ধুর কথা বলতে চেয়েছেন। তার মতো বন্ধু পৃথিবীতে আর নেই। অজয়ের কথায় হেসে ওঠেন টাবুও। মজা করে অভিনেত্রী বলেন, অজয়ের মতো মানুষই তাকে সহ্য করতে পারেন, অন্য কেউ হয়তো পারতেন না।
অজয়কে নিয়ে টাবুর এমন রসিকতা অবশ্য নতুন নয়। ২০১৭ সালে ‘গোলমাল এগেইন’ সিনেমার প্রচারের সময়ও অভিনেত্রী মজা করে বলেছিলেন, ছোটবেলায় অজয় ও তার কাজিন সামীর আরিয়া তাকে অনুসরণ করতেন। কোনো ছেলে তার সঙ্গে কথা বলতে এলে ভয় দেখাতেন। এ কারণে মজা করে নিজের বিয়ে না করার জন্য অজয়কেই দায়ী করেছিলেন টাবু। এমনকি তাকে একজন পাত্র খুঁজে দেওয়ার দায়িত্বও দিয়েছিলেন।
টাবুর ব্যক্তিজীবনে প্রেমের সম্পর্ক নিয়েও কম আলোচনা হয়নি। অভিনেতা সঞ্জয় কাপুরের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা একসময় প্রকাশ্যে এসেছিল। ১৯৯৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘প্রেম’ সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করার সময় তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন সঞ্জয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সিনেমাটির শুটিংয়ের শুরুর দিকে দুজন সম্পর্কে ছিলেন। তবে ছবির কাজ শেষ হওয়ার আগেই তাদের মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার সঙ্গেও প্রেমের সম্পর্ক ছিল টাবুর। ১৯৯৭ সালে রেডিফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাজিদের সঙ্গে সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছিলেন অভিনেত্রী। তখনই জানিয়েছিলেন, বিয়ের কোনো পরিকল্পনা নেই তার। পরবর্তী সময়ে তাদের সম্পর্কের ইতি ঘটলেও বন্ধুত্ব অটুট ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
দক্ষিণী অভিনেতা নাগার্জুনের সঙ্গেও টাবুর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বহু বছর ধরে গুঞ্জন রয়েছে। দুজনের সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা হলেও কেউই প্রকাশ্যে প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। টাবু নাগার্জুনের সঙ্গে নিজের সম্পর্ককে বিশেষ ও ঘনিষ্ঠ বলে উল্লেখ করেছেন। নাগার্জুনও তাকে কাছের বন্ধু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বিয়ে না করার কারণ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এই অভিনেত্রী। ২০১৬ সালে ‘ফিল্মফেয়ার’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কেন এখনো একা রয়েছেন? জবাবে টাবু বলেছিলেন, বিষয়টি শুধু একজন মানুষের ওপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে অন্য ব্যক্তি, সময় এবং আরও অনেক বিষয় জড়িত। অবিবাহিত থাকার কারণে তার জীবনে কোনো অপূর্ণতা নেই বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
২০১৮ সালে জাগরণ চলচ্চিত্র উৎসবে বিয়ে না করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে টাবু জানান, এ নিয়ে তার কোনো আফসোস নেই। বিয়ে করলে জীবন কেমন হতো, তা তিনি জানেন না। কারণ সেই অভিজ্ঞতা তাঁর হয়নি। তাই একাকী জীবন ভালো, নাকি দাম্পত্য জীবন—এমন তুলনায়ও যেতে চান না তিনি।
২০২৩ সালে ‘এইচটি ব্রাঞ্চ’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনদর্শন আরও স্পষ্ট করেন অভিনেত্রী। তার মতে, মানুষের সুখ কেবল সম্পর্কের অবস্থার ওপর নির্ভর করে না। একা থাকলে নিজের নিঃসঙ্গতা সামলানো সম্ভব, কিন্তু ভুল মানুষের সঙ্গে সম্পর্কে থাকলে সেই অভিজ্ঞতা আরও কষ্টকর হতে পারে।
টাবুর বিশ্বাস, একটি আদর্শ সম্পর্কে দুজন মানুষ একে অপরের জীবনে থেকে আরও বিকশিত হবেন। সম্পর্কের কাজ মানুষকে স্বাধীনতা দেওয়া, আটকে রাখা নয়। নিজের কাজ, স্বাধীনতা এবং পৃথিবীকে জানার আগ্রহকেও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করেন তিনি।
১৯৭১ সালের ৪ নভেম্বর ভারতের হায়দরাবাদে জন্ম টাবুর। তার পুরো নাম তাবাসসুম ফাতিমা হাশমি। ছোটবেলায় বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর মা ও নানা-নানির কাছে বড় হয়েছেন তিনি। শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় শুরু করে নব্বইয়ের দশকে বলিউডে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন।
‘মাচিস’, ‘বিরাসত’, ‘অস্তিত্ব’, ‘চাঁদনি বার’, ‘মকবুল’, ‘হায়দার’, ‘আন্ধাধুন’ ও ‘দৃশ্যম’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। ‘মাচিস’ ও ‘চাঁদনি বার’ সিনেমার জন্য পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। অভিনয়ে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১১ সালে ভারত সরকারের কাছ থেকে পেয়েছেন পদ্মশ্রী সম্মান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন