প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের দরিয়ানগর এলাকায় দিনে-দুপুরে দাহ্য পদার্থ বা চেতনানাশক স্প্রে নিক্ষেপ করার মাধ্যমে এক ব্যক্তির কাছ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার একটি ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১ জুন) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে এই ঘটনা ঘটে রামু উপজেলার দরিয়ানগর প্যারাসেইলিং পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায়।
ছিনতাইয়ের শিকার ব্যক্তি মো. রফিক (৪৫) যিনি টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরীপাড়ার বাসিন্দা। পেশায় ভাড়ায় চালিত যাত্রীবাহী গাড়ির চালক হিসেবে কাজ করেন। বর্তমানে তিনি কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করার পর।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রফিক জানিয়েছেন, তাঁর ছোট ভাই মো. জাহিদ যাত্রীবাহী গাড়িতে করে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারের দিকে রওনা দেন, সেই সময় ইজিবাইক কেনার জন্য নগদ সাড়ে ৩ লাখ টাকা নিয়ে আসেন। কিন্তু দরিয়ানগর এলাকায় পৌঁছানোর পর চারটি মোটরসাইকেলে আসা আটজন দুর্বৃত্ত তাদের গাড়ির গতিরোধ করে।
তিনি অভিযোগ করেছেন, মোটরসাইকেল থেকে নেমে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে গাড়ি থেকে নামতে হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তাঁর বাম উরুতে বোতলজাত তরল দাহ্য পদার্থ স্প্রে করা হয়। ফলে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জ্বালাপোড়া শুরু হয় এবং তিনি অসহায় হয়ে পড়েন। এ সুযোগে দুর্বৃত্তরা তাঁর প্যান্টের পকেটে থাকা নগদ সাড়ে ৩ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
এছাড়া রফিক আরও দাবি করেছেন যে, দুর্বৃত্তদের নিক্ষেপ করা পদার্থের কারণে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং পরিহিত প্যান্টের কিছু অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঘটনার পর গাড়ির চালক ও অন্যান্য যাত্রীরা তাঁকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও গাড়িচালক মো. জাহিদ বলেছেন, "ভাতিজার জন্য ইজিবাইক কিনতে আমরা কক্সবাজারে যাচ্ছিলাম। দরিয়ানগর এলাকায় মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা গাড়ি থামিয়ে আমার ভাইকে লক্ষ্য করে দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপ করে এবং সঙ্গে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেয়।"
এদিকে ভুক্তভোগী রফিক এবং তাঁর ভাই জাহিদ ঘটনার পেছনে কক্সবাজার সদরের বড়ছড়া এলাকার মো. ইমন নামের এক যুবকের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, ইমনের সঙ্গে রফিকের পূর্ব পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল এবং রফিক যে নগদ টাকা নিয়ে ইজিবাইক কিনতে কক্সবাজার যাচ্ছেন, সে তথ্য ইমন জানতেন।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইমনও একই দিন যাত্রীবাহী গাড়ি নিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। পথে কয়েকবার দুই গাড়ি একে অপরকে অতিক্রম করার ঘটনা ঘটে। পরে দরিয়ানগর অঞ্চলে পৌঁছানোর পরেই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ইমনের বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল গিয়ে আহত ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছে এবং বিষয়টি কিভাবে ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আহত ব্যক্তির শরীরে অ্যাসিড নাকি চেতনানাশক স্প্রে জাতীয় কোনো পদার্থ নিক্ষেপ করা হয়েছে, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন