প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফরিদপুরের সামেলা (সাহেলা) আক্তার (৬০) নামের এক নারীকে হত্যা করার অভিযোগ ওঠেছে তার ছেলে আব্দুর রাহিম শেখের (৩৫) বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন। এর আগে সৎমাকে হত্যার অভিযোগে তিনি প্রায় ছয় বছরের অধিক সময় জেলে ছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরিদপুর শহরের বায়তুল আমান এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ বিকেল ৫টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বাইরে থাকাকালীন আব্দুর রাহিম শেখ ধারালো অস্ত্র ও ভোঁতা বস্তু দিয়ে মায়ের মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই সামেলা আক্তারের মৃত্যু ঘটে। পরে প্রতিবেশীরা রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। নিহতের মেয়ে কাকলী আক্তার বলেছেন, ‘তার ভাই দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি প্রায়ই মায়ের কাছে টাকা চাইতেন। টাকা না দিলে মারধর করতেন। ঘটনার দিন সকালে রাহিম একটি আলাদা ঘরে ছিলেন যখন কাকলী কাজে যাচ্ছিলেন। দুপুরের দিকে খবর পান যে তার ভাই মাকে হত্যা করে পালিয়ে গেছে।’ স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ২০১৬ সালে রাহিম শেখ তার সৎমাকেও একইভাবে হত্যা করেছিলেন। ওই ঘটনার পরে তিনি ছয় বছরের কারাবাস শেষে জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন। তার পরও তার আচরণ স্বাভাবিক হয়নি। পরিবারের সদস্যদের প্রতি মারধর, টাকা চাওয়া এবং নেশাগ্রস্ত অবস্থায় অস্বাভাবিক আচরণ ছিল রাহিমের নিয়মিত অভ্যাস। কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত দত্ত জানিয়েছেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রাহিম তার মাকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে পালিয়ে গেছে। প্রতিবেশীরা তাকে মাদকাসক্ত বলে চেনেন। ছেলের কক্ষ থেকে ফয়েল পেপার, মোমবাতি, সিগারেটের প্যাকেট সহ মাদক সেবনের আলামত জব্দ করা হয়েছে।’ মরদেহটি ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন