প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেপালে ভুয়া নথি তৈরি করে দেশটির নাগরিকদের ভুটানি শরণার্থী পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্বাসনের চেষ্টা করার অভিযোগে সাবেক দুই মন্ত্রীসহ ১৬ জনকে আদালত বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) কাঠমান্ডু জেলা আদালত রায় দেয় যে সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রী টোপ বাহাদুর রায়ামাঝিকে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ, জালিয়াতি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িত থাকার জন্য চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাল কৃষ্ণ খাডকে সহযোগীর ভূমিকার জন্য দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার মধ্যরাতে এই রায় ঘোষণা করা হয়।
বর্তমানে রায়ামাঝি কারাগারে রয়েছে। অন্যদিকে, জামিনে মুক্ত রয়েছেন খাড। রায়ের ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পূর্বে তারা দুজনেই এই কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
রায়ামাঝির আইনজীবী ধর্ম রাজ রেগমি জানান, তার মক্কেল শরণার্থী নীতিনির্ধারণে কোনো ভূমিকা রাখেননি, সেই কারণে তারা উচ্চ আদালতে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। একই বিবৃতি দিয়েছেন খাডের আইনজীবী পঙ্কজ কর্ণও।
আদালত একই মামলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক এক শীর্ষ আমলা এবং ভুটানি শরণার্থীদের সাবেক এক নেতাসহ অন্যান্য ১৪ জনকে সর্বোচ্চ চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।
তদন্তে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি যে ভুয়া ভুটানি শরণার্থী পরিচয়ে কোনো নেপালি নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পেরেছিল কি না। ২০২৩ সালে এই জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে আসে, যখন অভিযুক্ত দুই মন্ত্রী সরকারি দায়িত্বে ছিলেন না।
১৯৯০-এর দশকের শুরু থেকে, নেপালি বংশোদ্ভূত প্রায় এক লাখ ২০ হাজার ভুটানি রাজনৈতিক স্বাধীনতার দাবিতে ভুটান ছেড়ে নেপালে আশ্রয় নেন। পরে তৃতীয় দেশে পুনর্বাসন কর্মসূচির অধীনে তাদের মধ্যে প্রায় এক লাখ ১৩ হাজারকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন পশ্চিমা দেশে পুনর্বাসন করা হয়। এর মধ্যে প্রায় এক লাখ শরণার্থী যুক্তরাষ্ট্রে গ্রহণ করা হয়।
এখনও কয়েক হাজার ভুটানি শরণার্থী পূর্ব নেপালের শিবিরগুলোতে অবস্থান করছে। তাদের দাবি, তারা ভুটানে ফিরে যেতে চান।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে যুবসমাজের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে ৭৬ জন নিহত হন। ওই আন্দোলনের ফলে নেপালের তৎকালীন সরকারের পতন ঘটে।
এরপর চলতি বছরের মার্চে সাবেক র্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া ৩৬ বছর বয়সি বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বে জেন-জেড সমর্থিত নতুন সরকার ক্ষমতায় আসে। শাহ আগের প্রশাসনের আমলে সংঘটিত অভিযোগ ওঠা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সূত্র: রয়টার্স
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন