প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজা পঞ্চম হ্যারাল্ডের মৃত্যুর পর, যিনি দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে সিংহাসনে ছিলেন, শনিবার রাজা অষ্টম হাকনের নেতৃত্বে নরওয়ে ইতিহাসের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে।
শুক্রবার সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে ৮৯ বছর বয়সে রাজা হ্যারাল্ডের মৃত্যুর পর, স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশটিতে জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়।
এটি জানানো হয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে।
শুক্রবার রাজধানী অসলোতে হাজার হাজার মানুষ রাজপরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হন। তারা একে অপরকে আলিঙ্গন করেন এবং রাজার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ফুল দেন।
৫৩ বছর বয়সী হাকন একটি রাজতন্ত্রের দায়িত্ব নিচ্ছেন, যা আধুনিক ও সাধারণ জীবনযাপনের জন্য প্রশংসিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক কেলেঙ্কারিতে চাপে পড়েছে।
নতুন রাজার সঙ্গে সাক্ষাতের পর প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোর এক ভাষণে বলেন, ‘একটি যুগের অবসান হয়েছে। নতুন একটি যুগ শুরু হয়েছে। রাজা মারা গেছেন। রাজা দীর্ঘজীবী হোন।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা রাজা হ্যারাল্ডকে তার জনগণের প্রতি ভালোবাসা ও আন্তরিকতা এবং আমাদের প্রতি তার অটুট আস্থার জন্য স্মরণ করব।’
শুক্রবার সন্ধ্যায় হ্যারাল্ডের মরদেহের কফিন অসলো বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে রাজপ্রাসাদে নেওয়ার সময় সড়কের দুই পাশে অসংখ্য মানুষ দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানান।
এর আগে হাকন তার ২২ বছর বয়সী মেয়ে ইনগ্রিড আলেক্সান্দ্রাকে—যিনি এখন নতুন ক্রাউন প্রিন্সেস—সঙ্গে নিয়ে রাজপ্রাসাদে যান। সেখানে তিনি সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বাবার মৃত্যুর খবর জানান।
এক বিবৃতিতে হাকন এই কঠিন সময়ে রাজপরিবারের প্রতি সমর্থন ও সহানুভূতি জানানোর জন্য ‘সরকার ও নরওয়ের জনগণকে’ ধন্যবাদ জানান।
নরওয়ের পার্লামেন্ট জানিয়েছে, নতুন রাজা মঙ্গলবার পার্লামেন্টের প্রধান কক্ষে আনুগত্যের শপথ নেবেন।
হ্যারাল্ডের শেষকৃত্য না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় শোক চলবে। তবে শেষকৃত্যের তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
হাকনের রাজ্যাভিষেক হওয়ার সম্ভাবনা নেই, কারণ ১৯০৮ সালে এই প্রথা বাতিল করা হয়।
তবে তার বাবা ও দাদার মতো হাকনও ট্রনহেইম ক্যাথেড্রালে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার রাজত্বের আনুষ্ঠানিক আশীর্বাদ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। ১৮১৪ থেকে ১৯০৬ সাল পর্যন্ত এই ক্যাথেড্রালেই নরওয়ের রাজাদের রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠিত হতো।
‘দাদার মতো’
ইউরোপের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ ক্ষমতাসীন রাজা হ্যারাল্ড ১৭ আগস্ট থেকে অসলোতে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তিনি রক্তের লোহিত কণিকা অস্বাভাবিক দ্রুত ধ্বংস হওয়ার কারণে সৃষ্ট হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়াতে ভুগছিলেন। এই রোগে সাধারণত দুর্বলতা ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।
স্টোর বলেন, ১৯৯১ সালে সিংহাসনে বসা হ্যারাল্ড ছিলেন ‘তার সময়ের উপযোগী এবং সময়ের দাবি পূরণ করা একজন রাজা।’
তিনি আরও বলেন, কয়েক দশকের ব্যাপক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে হ্যারাল্ড নরওয়ের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই সময়ে দেশটি ‘আরও ধনী হয়েছে, জনসংখ্যা বেড়েছে এবং সমাজ আরও বৈচিত্র্যময় হয়েছে।’
শুক্রবার দিনভর হাজার হাজার নরওয়েজিয়ান অসলো রাজপ্রাসাদের সামনে জড়ো হন। সন্ধ্যায় ভারী বৃষ্টি শুরু হলেও মানুষের উপস্থিতি কমেনি।
তারা সেখানে ফুল, কার্ড এবং লাল-সাদা-নীল জাতীয় পতাকা রেখে শ্রদ্ধা জানান। অনেককে পরস্পরকে আলিঙ্গন করতে এবং একে অপরকে সান্ত্বনা দিতে দেখা যায়।
৪৯ বছর বয়সী লাইন স্টুসল্যান্ড ফুলের তোড়া রাখার আগে এএফপিকে বলেন, ‘তিনি আমাদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন ঐক্যবদ্ধকারী রাজা, জনগণের রাজা।’
তিনি আরও বলেন, ‘তিনি যেন পুরো জাতির দাদার মতো ছিলেন।’
হ্যারাল্ডকে উদার ও সহনশীল নরওয়ের প্রতীক হিসেবে ব্যাপকভাবে দেখা হতো।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন