প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ছিনতাইকারী অপবাদ দিয়ে জিসান নামে এক যুবককে গণপিটুনি প্রদান করে হত্যা করার অভিযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) রাত ১০টায় সদর উপজেলার ফতুল্লা থানাধীন পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত জিসান একই এলাকার বাসিন্দা।
স্বজনরা জানিয়েছেন, স্থানীয় মসজিদের ইমাম কাউছার আহমেদ, সম্প্রতি এলাকার যুবকদের নিয়ে আল ফালাহ কল্যাণ সংগঠন নামে মাদক-সন্ত্রাসবিরোধী একটি সামাজিক সংগঠন গঠন করেন। শনিবার রাত ১০টার দিকে আল ফালাহ কল্যাণ সংগঠনের ৩০ থেকে ৪০ জন সদস্য এসে জিসানের বিরুদ্ধে মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ উত্থাপন করে, তাকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে যান। এরপর হাত-পা বেঁধে তাকে পিটিয়ে ও শারীরিক নির্যাতন করে গুরুতর আহত করে জিসানকে।
এক পর্যায়ে জিসান অচেতন হয়ে পড়লে, ওই অবস্থায় তাকে পরিবারের কাছে তুলে দিয়ে চলে যান সংগঠনের সদস্যরা। পরে, স্বজনরা গুরুতর অবস্থায় জিসানকে শহরের খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, জিসানের মৃত্যুর খবর শোনার পরে তার বড় ভাই বাবুর নেতৃত্বে স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে বলে জানা গেছে স্থানীয়দের থেকে।
জিসানের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগে বলা হয়, ইমাম কাওছার আহমেদের নেতৃত্বে জিসানের হাত-পা ভেঙে ফেলা হয়। জিসানকে ছেড়ে দিতে তারা বার বার অনুরোধ করলেও আল ফালাহ সংগঠনের সদস্যরা সেই অনুরোধ উপেক্ষা করেন। তাদের দ্বারা জিসানকে হত্যা করে মৃত অবস্থায় পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। নিহত জিসানের পরিবার দ্রুত গ্রেফতারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান ঘটনার সাথে জড়িতদের।
অন্য এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীতে গণপিটুনিতে আহত যুবক পুলিশ হেফাজতে মারা গেছেন।
মসজিদের ইমাম ও আল ফালাহ কল্যাণ সংগঠনের নেতা কাওসার আহমেদ জানান, জিসানের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, বিক্রি ও ছিনতাইয়ের বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে। তাকে সংশোধন করার জন্য পূর্বে অনেকবার বোঝানো হয়েছে। তিনি এও বলেছেন যে, বেশ কয়েকবার মারধর করা হয়েছে তাকে। কিন্তু জিসান সংশোধন হননি। শনিবার, জিসান স্থানীয় এক যুবকের মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনতাই করলে ওই যুবক স্থানীয়দের কাছে এসে নালিশ করেন। এভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় জনতা জিসানকে মারধর করে। পরে তাকে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ওই যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরগে পাঠানো হয়েছে। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতরা যেই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। অপরাধ যেন কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকবেন সবাই। এই ঘটনা সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে থানা পুলিশের অভিযানে চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন