প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরান জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ভিসা পেয়েছেন বলে হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ সংঘাতের পরিস্থিতির মাঝে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে লস অ্যাঞ্জেলেসে যাওয়ার মাত্র ১০ দিন আগে এই অনুমোদন মিলেছে।
মেক্সিকোতে ইরানের রাষ্ট্রদূত আবোলফাজল পাসানদিদেহ বৃহস্পতিবার (৯৪ মে) গভীর রাতে জানান, দলের সদস্যরা তখনও যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাননি। তবে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তার মতে, ঘটনাক্রমে রাতের মধ্যে সেই ভিসা অনুমোদন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ মে) এক্সে একটি বার্তায় তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, 'যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে ইরানের জাতীয় ফুটবল দলের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আঙ্কারায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের দলের সদস্যদের নিয়ে আমি গর্বিত।'
তবে ইরানের দলের কয়েকজন কারিগরি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার ভিসা এখনও অনুমোদিত হয়নি, শুক্রবার ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটি জানায়, 'জাতীয় দলের কয়েকজন কারিগরি ও নির্বাহী কর্মকর্তার ভিসা এখনো ইস্যু করা হয়নি এবং মার্কিন দূতাবাস এখন পর্যন্ত তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।' যদিও তারা কোনো সূত্রের নাম উল্লেখ করেননি।
এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি ইরান ফুটবল ফেডারেশন।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্বকাপকে একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অতিরিক্ত একটি ভূরাজনৈতিক মঞ্চে পরিণত করেছে। দুই পক্ষই যেন এই আসরকে একটি রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।
১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের সূচনা হওয়ার পর এটি প্রথমবারের মতো, কোনো আয়োজক দেশ এমন একটি দেশের দলকে স্বাগত জানাচ্ছে, যার সঙ্গে তারা সরাসরি যুদ্ধে জর্জরিত।
ভিসা জটিলতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে দলের উপস্থিতি সীমিত রাখার ইচ্ছার কারণে শেষ মুহূর্তে ইরান তাদের বেস ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা থেকে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় স্থান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলটি রোববার ভোরে তিহুয়ানায় পৌঁছানোর সফরে থাকবে।
গ্রুপ ‘জি’-তে থাকা ইরান ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। এরপর একই শহরে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে এবং শেষ গ্রুপ ম্যাচ খেলবে সিয়াটলে মিশরের বিরুদ্ধে।
রাষ্ট্রদূত পাসানদিদেহ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি যে তারা ইরান দলকে নিজেদের ভূখণ্ডে রাখতে চায় না।
তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত মঙ্গলবার (২ জুন) আইনপ্রণেতাদের জানান, ইরানের বিশ্বকাপ প্রতিনিধিদলে ইসলামিক রেভুলোশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভিসা পাননি মেহদি তাজ। তিনি অতীতে আইআরজিসির একজন কমান্ডার ছিলেন।
পাসানদিদেহের মতে, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের ব্যাপারে ইরানের আগ্রহই প্রমাণ করে যে দেশটি সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়।
তিনি বলেছেন, 'যে দেশকে শত্রু হিসেবে দেখা হয়, সেই দেশের মাটিতেও বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেখায় যে ইরান শান্তি চায়।'
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ধীরগতিতে এগোলেও উভয় পক্ষ একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে সামরিক হামলাও অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন