প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ডাইনোসরের পৃথিবীতে আসার অনেক আগে মহাকাশ থেকে টানা একটি অভার্যুন্দর উল্কা পৃথিবীতে আঘাত হেনেছিল। এবার সেই ঘটনার সঠিক সময় নির্ধারণ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। তাদের গবেষণায় উঠে এসেছে, পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন পরিচিত উল্কাপাতের গর্তটি তৈরি হয়েছিল আনুমানিক ৩০০ কোটি বছর আগে। এটি ডাইনোসরের যুগের চেয়ে ১০ গুণেরও বেশি পুরোনো।
গবেষকদের দল পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পিলবারা অঞ্চলের নর্থ পোল ডোম এলাকার শিলাখণ্ডের পরীক্ষা করেছেন। এই এলাকাটি বহু বছর ধরেই প্রাচীন উল্কাপাতের স্থান কি না, তা নিয়ে বিতর্ক ছিল। কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব আর্থ অ্যান্ড প্ল্যানেটারি সায়েন্সেস এবং জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার গবেষকেরা আধুনিক খনিজ বিশ্লেষণ পদ্ধতির ব্যবহার করে সেখানে একটি বিশাল মহাজাগতিক সংঘর্ষের ক্ষেত্রে স্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছেন।
গবেষণায় প্রধান লেখক অধ্যাপক ক্রিস কার্কল্যান্ড বলেন, এই আবিষ্কার উল্কার আঘাতের সময় নিয়ে দীর্ঘকালীন বিতর্কের সমাধান ঘটিয়েছে। তার মতে, আজকের পরিচিত জীবনের বিকাশের অনেক আগে বিশাল গ্রহাণুগুলো পৃথিবীর মহাদেশ গঠন এবং ভূ-পৃষ্ঠের পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
তিনি জানিয়েছেন, প্রচণ্ড এই সংঘর্ষের ফলে পাথরের ভেতরে এমন কিছু খনিজের পরিবর্তন ঘটে, যা গবেষকদের কাছে ‘খনিজ ঘড়ি’ হিসেবে কাজ করেছে। বিশেষ করে, জিরকন নামের অত্যন্ত টেকসই ক্ষুদ্র খনিজের গঠন তীব্র তাপে পরিবর্তিত হয়েছিল। সেই পরিবর্তিত জিরকনকে বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা প্রায় ৩০০ কোটি বছর আগের এই ঘটনার সঠিক সময় নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছেন।
গবেষণার ফল নিশ্চিত করতে বিজ্ঞানীরা অ্যাপাটাইট নামের আরেকটি খনিজও পরীক্ষা করেন। প্রচণ্ড আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত পাথরের ভেতর দিয়ে গরম তরল প্রবাহিত হওয়ার সময় এই খনিজ তৈরি হয়েছিল। এই স্বাধীন পরীক্ষাতেও একই বয়স পাওয়া যায়, যা গবেষণার ফলাফলকে আরও বেশি নির্ভরযোগ্য করেছে।
গবেষকদের মতে, নর্থ পোল ডোম বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন পরিচিত উল্কাপাতের গর্ত এবং আর্কিয়ান ইওনের একমাত্র স্বীকৃত উল্কাপাত কেন্দ্র। পৃথিবীর ইতিহাসের এই প্রাথমিক সময়ে প্রথম দিকের মহাদেশগুলো গড়ে উঠছিল।
জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার ভূবিজ্ঞান বিভাগের পরিচালক ড. সাইমন জনসন এই গবেষণার ফলাফলকে অসাধারণ বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, এ ধরনের যৌথ গবেষণা পৃথিবীর প্রাচীন ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস সম্পর্কে নতুন তথ্য উন্মোচনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ‘How old is the North Pole Dome impact, Western Australia?’ শীর্ষক এই গবেষণাটি Geology সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন