প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দীর্ঘদিনের আন্দোলন, দাবি ও প্রত্যাশার অবসান ঘটিয়ে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা থেকে ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন উপজেলা বাঙ্গরা বাজার গঠন করা হয়েছে।
প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় বুধবার (১ জুলাই) এ প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। এর ফলে বাঙ্গরা ও মুরাদনগর জুড়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা নতুন উপজেলা প্রতিষ্ঠাকে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ হিসেবে দেখছেন।
নিকারের অনুমোদনের মাধ্যমে মুরাদনগর উপজেলার ২২টি ইউনিয়নের মধ্যে শ্রীকাইল, আকুবপুর, আন্দিকোট, পূর্বধইর পূর্ব, পূর্বধইর পশ্চিম, বাঙ্গরা পূর্ব (সদর), বাঙ্গরা পশ্চিম, চাপিতলা, রামচন্দ্রপুর উত্তর ও টনকীসহ ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে বাঙ্গরা বাজার উপজেলা।
উপজেলা অনুমোদনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, হাটবাজার ও গ্রামাঞ্চলে আনন্দের জোয়ার বয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। অনেকেই এটিকে বাঙ্গরা অঞ্চলের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
স্থানীয়দের মতে, এতদিন তাদের প্রশাসনিক সেবা গ্রহণের জন্য প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে মুরাদনগর উপজেলা সদরে যেতে হতো। একটি কাজ সম্পন্ন করতেই অনেক সময় পুরো দিন ব্যয় হয়ে যায়। নতুন উপজেলা প্রতিষ্ঠার ফলে সরকারি বিভিন্ন সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে এবং সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হবে বলে তাদের প্রত্যাশা।
বাঙ্গরাকে উপজেলা করার দাবিতে গত কয়েক বছর ধরে ১০টি ইউনিয়নের জনগণ ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন, সভা ও সমাবেশ এবং গণসচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি পালন করে চলেছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে উপজেলা বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ বিষয়টি এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অবশেষে নিকারের অনুমোদনের মধ্য দিয়ে তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটে।
বাঙ্গরা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন বলেন, ‘বাঙ্গরাকে উপজেলা করা ছিল আমাদের প্রাণের দাবি। ২০১৪ সালে ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে বাঙ্গরা থানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আজ উপজেলা অনুমোদন পাওয়ায় পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ করা হচ্ছে।’
মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আলম সরকার ও যুবদল নেতা চঞ্চল রায়হান বলেন, ‘প্রায় এক দশকের আন্দোলনের ফসল আজকের এই উপজেলা।’ তারা এ উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি তাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
ঐতিহ্য কুমিল্লার সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল বক্তব্য রাখেন, ‘জাতীয় কবির স্মৃতিকে ধারণ করে নতুন উপজেলার নাম ‘নজরুল নগর’ রাখা হলে অঞ্চলটি যেমন গর্বিত হবে, তেমনি কবির প্রতিও যথাযথ সম্মান জানানো হবে।’
এনসিপি কুমিল্লা উত্তর জেলা আহ্বায়ক গোলাম কিবরিয়া সরকার বলেন, ‘দলমত নির্বিশেষে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই বাঙ্গরা উপজেলার অনুমোদন এসেছে। নতুন উপজেলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রশাসনিক সেবার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন