প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুষ্টিয়ার খাজানগরের এক চাল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বাকিতে ১৩ মেট্রিক টন চাল ক্রয় করে এক সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায়, ঝালকাঠি ও বরিশালে টানা দুদিনের অভিযানে প্রতারক চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এই অভিযানের ফলে চুরি হওয়া ১৩ টন চালের মধ্যে প্রায় ৬ মেট্রিক টন চাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে আদালতের মাধ্যমে গ্রেফতারকৃত আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন, আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মো. আরিফ হোসেন (৪০), মৃত মোফাজ্জেল মোল্লার ছেলে আব্দুর রহিম (৩৮), শাহ আলম খানের ছেলে মো. মিজানুর রহমান রাজু (৩২), মৃত শৌকে আলী খান তালুকদারের ছেলে মো. বাদশা তালুকদার (৬৫) এবং ঝালকাঠি জেলার নলসিটি থানার গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত কেরামত আলীর ছেলে মো. আলম হাওলাদার (৫০)। বাকি চার আসামির বাড়ি ঝালকাঠি জেলার গাবখান ৯ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ঢাকার মিরপুর কচুক্ষেত এলাকার মো. কাশেম (৪৫) পূর্ব পরিচয়ের সূত্রে কুষ্টিয়ার খাজানগর এলাকার নূর অটো রাইস মিলের মালিক ব্যবসায়ী হাজি আমিরুল ইসলামের কাছ থেকে দুইবার চাল ক্রয় করেন। গত ১৫ আগস্ট প্রতারক কাশেম মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ১৩ টন চাল ক্রয়ের প্রস্তাব দেন।
ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলাম সরল বিশ্বাসে পরের দিন সন্ধ্যায় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ১৩ টন চাল আসামির পাঠানো ট্রাক ড্রাইভার মো. রাসেলের মাধ্যমে ঢাকার কচুক্ষেত রজনীগন্ধা সুপার মার্কেটের উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে প্রতারক কাশেমের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর তিনি ট্রাক ড্রাইভার মো. রাসেলের সাথে যোগাযোগ করেন। মোবাইলে ওই ট্রাক চালক জানায় যে, ২০ আগস্ট রাত একটার সময় চাল কাশেমের ঠিকানায় পৌঁছে দেয়।
পরবর্তীতে কাশেমসহ অজ্ঞাতনামা প্রতারক চক্রটি কৌশলে ট্রাকটি ঢাকার বাবু বাজার টিন পট্টিতে নিয়ে যায়। এরপর আরেকটি ট্রাক করে ১৩ মেট্রিক টন চাল আনলোড করে অজ্ঞাতস্থানে চলে যায়। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলাম কুষ্টিয়া মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
কুষ্টিয়া মডেল থানার (ওসি) জাকির হোসেন জানান, সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রটি ঝালকাঠি এবং বরিশালে দুই জায়গায় চাল লুকিয়ে রেখেছিল। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তাদেরকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা প্রতারণার কথা স্বীকার করেছে। মূল আসামি ঢাকার মিরপুর কচুক্ষেত এলাকার মো. কাশেমসহ প্রতারক চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান ওসি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন