প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঠান্ডা, অ্যালার্জি কিংবা সাইনাসের সমস্যায় নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া খুবই পরিচিত, অথচ ভীষণ অস্বস্তিকর একটি ব্যাধি। এ অবস্থায় শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, ঘুম ব্যাহত হয় এবং এটি দৈনন্দিন কাজেও মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন করে তোলে। অনেকেই জোরে জোরে নাক ঝাড়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু এতে উপকারের চেয়ে অধিক ক্ষতি হয়। বিশেষজ্ঞদের বিবরণ অনুযায়ী, জীবনযাত্রায় কিছু সহজ পরিবর্তন এবং কয়েকটি নিরাপদ ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করলে ওষুধ ছাড়াই অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ নাকের অস্বস্তি দ্রুত কমিয়ে আনা সম্ভব।
কেন নাক বন্ধ হয়?
অনেকে মনে করেন, নাক বন্ধ হওয়ার একমাত্র কারণ হচ্ছে অতিরিক্ত সর্দি জমে থাকা। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, বিষয়টি বিশেষভাবে সাধারণ নয়। নাকের ভেতরের রক্তনালীগুলো ফুলে যাওয়া বা প্রদাহ (ইনফ্লামেশন) তৈরি হওয়ার ফলে নাক বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই কেবল মাত্র জোর করে নাক পরিষ্কার করার চেষ্টা করলে অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত ফল প্রাপ্তি হয় না; বরং নাকের ভেতরের সংবেদনশীল চামড়া ও রক্তনালীর ক্ষতির ঝুঁকি সৃষ্টি হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের কেক স্কুল অব মেডিসিন-এর ওটোল্যারিঙ্গোলজি (নাক, কান ও গলা রোগ) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. কেভিন হুর এবং সেডার্স-সিনাই মেডিকেল গ্রুপ-এর বিশেষজ্ঞ ডা. টেলর কার্ল সেল্ফ ডটকমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, কয়েকটি সহজ অভ্যাস অনুসরণ করলে কোনো ওষুধ ছাড়াই বন্ধ নাকের অস্বস্তি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
১. গরম ভাপ বা স্টিম থেরাপি
বন্ধ নাক খোলার সবচেয়ে সহজ, প্রাকৃতিক এবং নিরাপদ পদ্ধতি হলো গরম পানির ভাপ গ্রহণ করা। গরম ভাপ নাকের ভেতরে জমে থাকা ঘন শ্লেষ্মা বা সর্দিকে নরম করে এবং তরল অবস্থায় রূপান্তরিত করে, ফলে এটি সহজে বের হয়ে আসে। একই সাথে এটি নাকের ভেতরের শুষ্কতা ও অস্বস্তিও কমাতে সহায়ক হয়।
যেভাবে করবেন
বাথরুমের দরজা বন্ধ করে গরম পানির শাওয়ার চালু রেখে ১০ থেকে ১৫ মিনিট বাষ্পযুক্ত পরিবেশে শ্বাস নিন।
শাওয়ারের ব্যবস্থা না থাকলে একটি পাত্রে গরম পানি নিয়ে মাথা ও পাত্রকে একটি তোয়ালে দিয়ে ঢাকা দিয়ে ৫ থেকে ১০ মিনিট ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিন।
এক কাপ গরম চা বা কফির ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে টেনে নেওয়াও সাময়িক আরাম দিতে পারে। ঘরের বাতাস আর্দ্র রাখতে হিউমিডিফায়ারও ব্যবহার করলে নাকের শুষ্কতা কমে।
২. সঠিক নেসাল স্প্রে নির্বাচন
নাকের ভেতরের ফোলাভাব ও অস্বস্তি কমানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের নেসাল স্প্রে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কিন্তু সব স্প্রে এক ধরনের নয়, এবং এগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম আত্মস্থ করা প্রয়োজন।
স্যালাইন ও স্টেরয়েড স্প্রে
সাধারণ স্যালাইন স্প্রে কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্টেরয়েড ও অ্যান্টিহিস্টামিন স্প্রে ব্যবহার করলে নাকের ভেতরের প্রদাহ কমে যাবে এবং শ্বাস নিতে স্বস্তি অনুভব হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দেশনা মেনে এগুলো দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহার তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।
ডিকনজেস্ট্যান্ট স্প্রে ব্যবহারে সতর্কতা
দ্রুত নাক খুলে দেওয়ার জন্য কিছু বাজারে ডিকনজেস্ট্যান্ট নেসাল স্প্রে পাওয়া যায়। তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, এগুলো টানা দুই থেকে তিন দিনের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে ‘রিবাউন্ড ইফেক্ট’ দেখা দিতে পারে। এ সময় স্প্রে বন্ধ করার পর নাক আগের তুলনায় আরও বেশি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
৩. ঘুমানোর ভঙ্গি পরিবর্তন করুন
অনেকের ক্ষেত্রে দিনের তুলনায় রাতে নাক বেশি বন্ধ হয়ে যায়। বিশেষ করে চিত হয়ে শোয়ার পর এই সমস্যা বেড়ে যায়। এর কারণ মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে মাথার দিকে রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি হওয়া, যা নাকের ভেতরের টিস্যুকে আরও ফুলিয়ে দেয়।
যেভাবে উপকার পাবেন
ঘুমানোর সময় মাথার নিচে একটি নয়, দুটি নরম বালিশ ব্যবহার করুন, যাতে মাথা হৃদযন্ত্রের অবস্থানের তুলনায় কিছুটা উঁচুতে থাকে। এতে রক্ত ও জমে থাকা শ্লেষ্মা নিচের দিকে নেমে যেতে পারে এবং নাকের স্থিতিচিত্র অনেকটাই কমনীয়তা অনুভব করতে পারে।
আরও পড়ুন
পেটের সুস্থতায় যেসব খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন
বাড়তি পরামর্শ
ডা. কেভিন হুরের মত অনুযায়ী, নাক বন্ধ থাকলে শরীরকে যথেষ্ট বিশ্রাম দেওয়া ও প্রচুর পানি এবং অন্যান্য তরল পান করা জরুরি। এভাবে শরীর আর্দ্র থাকে এবং শ্লেষ্মা পাতলা হতে সাহায্য করে।
তবে কোনো ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করার পরও যদি টানা দুই সপ্তাহ কিংবা তার বেশি সময় ধরে নাক বন্ধ থাকে, তাহলে দেরি না করে একজন নাক, কান ও গলা (ইএনটি) বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ নাকের হাড় বাঁকা, নাকের পলিপ অথবা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যাও এর কারণ হতে পারে।
বন্ধ নাকের সমস্যা সাধারণ হলেও এটি দৈনন্দিন জীবনকে বেশ অস্বস্তিকর করে তোলে। তবে সব ক্ষেত্রেই ওষুধের ওপর নির্ভর না করে গরম ভাপ নেওয়া, সঠিক নেসাল স্প্রে ব্যবহার করা এবং ঘুমানোর ভঙ্গিতে ছোটখাটো পরিবর্তন আনার মাধ্যমে অনেকটাই স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি যথেষ্ট বিশ্রাম ও তরল গ্রহণও দ্রুত সুস্থ হতে সহায়তা করবে। কিন্তু সমস্যা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় কিংবা বারবার ফিরে আসে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হবে সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর সিদ্ধান্ত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন