প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এল সালভাদরের ব্যয়সংকোচনমূলক সংস্কার কর্মসূচির আওতায় দেশটিকে নতুন করে প্রায় ১৪ কোটি ডলার অর্থায়নের জন্য একটি প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছেছে।
খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার আইএমএফ জানায়, এল সালভাদর সরকারের কাছ থেকে তারা নিশ্চিত হয়েছে যে, সাম্প্রতিক বিটকয়েন কেনার জন্য ব্যবহৃত অর্থ সরকারি তহবিল থেকে আসেনি, বরং এটি ব্যক্তিগত অনুদান থেকে এসেছে। এই তথ্য পাওয়ার পর নতুন অর্থ ছাড়ের বিষয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতা সম্পন্ন হয়।
এই চুক্তির আওতায় ৪০ মাস মেয়াদি ঋণ কর্মসূচির দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যালোচনা একসঙ্গে সম্পন্ন করা হবে। তবে অর্থ ছাড়ের আগে আইএমএফের নির্বাহী বোর্ডের অনুমোদন এবং কিছু পূর্বশর্ত পূরণ করা প্রয়োজন। প্রেসিডেন্ট নাইব বুকেলে ১৪০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার পর বিটকয়েনের বিষয়টি এই চুক্তির অন্যতম আলোচিত দিক হয়ে উঠেছে।
আইএমএফের কর্মসূচিতে এল সালভাদরকে বিটকয়েন নিয়ে তার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সীমিত করার শর্ত দেওয়া হয়েছিল। এই উদ্যোগের ফলে দেশটি ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত হয়ে ওঠে এবং এটি বিশ্ব অর্থনীতিতে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। আইএমএফ এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, ‘এখন থেকে নথিভুক্ত অনুদানের বাইরে আর কোনো অতিরিক্ত বিটকয়েন কেনার প্রত্যাশা করা হচ্ছে না।’
এছাড়া, বিটকয়েনের বিষয়টি ছাড়াও এল সালভাদরের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আইএমএফ ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। কয়েক বছর ধরে ধীরগতির অর্থনীতির পর বর্তমানে দেশটির অর্থনীতি ভালো করছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
আইএমএফ বলেছে, ‘এল সালভাদরের অর্থনীতি শক্তিশালীভাবে এগিয়ে চলেছে।’ গত বছর দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি ছিল এবং ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি ৪.৫ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
বিনিয়োগ, ভোক্তাদের ব্যয়, প্রবাসী আয়, পর্যটন এবং দেশে পুঁজি প্রবাহের ওপর ভিত্তি করে এই প্রবৃদ্ধি হবে বলে জানিয়েছে আইএমএফ। উন্নত নিরাপত্তাব্যবস্থা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির জন্যও সরকারের প্রশংসা করেছে আইএমএফ। সংস্থাটি বলেছে, এই কর্মসূচির কারণে দেশটিতে দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে।
এল সালভাদরের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করে। মধ্য আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে এই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার সবচেয়ে ধীর। তবে আইএমএফের কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ব্যয়সংকোচন নীতির ফলে সরকারি কর্মীদের ওপর বড় চাপ পড়েছে।
অর্থনীতিবিদদের ধারণা, ৬০ লাখ জনসংখ্যার দেশটিতে ২০২৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার সরকারি কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর দাবি, ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট নাইব বুকেলে ক্ষমতায় আসার পর থেকে সরকারি চাকরি হারানো মানুষের সংখ্যা ৪৭ হাজার।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন