প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাজীপুরের শিল্পনগরী কালিয়াকৈরের ৫/৬ লক্ষ শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসার শেষ ভরসা হলো ৫০-১০১ শয্যার কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে, সরকারি হাসপাতালটিতে রাতের বেলা অন্ধকার নেমে আসে। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইটের আলোতে রোগীদের চিকিৎসা, ইনজেকশন দেওয়া এবং স্যালাইন পড়ানোর কাজ চলছে। রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য এটি চরম ভোগান্তির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শুক্রবার রাতে সরেজমিনে হাসপাতাল পরিদর্শন করার সময় হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যায়। ওয়ার্ডের ভিতরে কোনো আলো নেই, ফ্যান বন্ধ, ফলে গরমে হাঁসফাঁস করছে শিশু, বয়স্ক এবং গুরুতর অসুস্থ রোগীরা। সরকারি হাসপাতালটি সাধারণ মানুষের চিকিৎসার জন্য অন্যতম প্রধান আশ্রয়স্থল। দিনে শ্রমিকরা গার্মেন্টসে কাজ করে, রাতে জ্বর, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট এবং ডেঙ্গুজ্বর নিয়ে হাসপাতালে আসেন। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকার কারণে তাদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাদিয়া তাসনিম মুনমুনের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, "বিষয়টি আমরা জানি এবং অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে আমাদের পুরনো জেনারেটরটি লোড নিতে পারে না। ফলে জরুরি বিভাগ, ডেলিভারি রুম এবং শিশু ওয়ার্ডে চরম সমস্যা হয়। রোগীদের কষ্ট আমরাও বুঝি, কিন্তু বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ছাড়া আমাদের হাত-পা বাঁধা। গাজীপুর ১ আসনের এমপি মহোদয় আমাদেরকে একটি শক্তিশালী জেনারেটর দিয়েছেন, যা এখনো সচল হয়নি, তবে দ্রুত সচল হয়ে যাবে।" তিনি আরও বলেন, "মোবাইলের আলোয় চিকিৎসা দেওয়া কোনোভাবেই নিরাপদ নয়, এটি আমাদের জন্যও কষ্টকর।"
অনুসন্ধানে জানা যায়, গাজীপুর-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মোঃ মজিবুর রহমান রোগীদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ইতিমধ্যেই হাসপাতালের জন্য একটি নতুন জেনারেটর প্রদান করেছেন। কিন্তু অজানা কারণে সেটি এখনো সচল করা হয়নি এবং সংযোগ দেওয়া হয়নি। ফলে লক্ষাধিক টাকার জেনারেটরটি পড়ে থাকলেও হাসপাতালটি অন্ধকারেই রয়ে গেছে।
এ বিষয়ে গাজীপুর-১ আসনের এমপি মোঃ মজিবুর রহমান বলেন, "আমি কালিয়াকৈর হাসপাতালের জন্য একটি নতুন জেনারেটর দিয়েছি, যাতে রাতে রোগীদের কষ্ট না হয়। সেটি এখনো কেন সচল হয়নি, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক। আমি খবর পেয়েছি হাসপাতালে রাতে বিদ্যুৎ থাকে না, রোগীরা কষ্ট পাচ্ছে। আমি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিচ্ছি, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আমার দেওয়া জেনারেটরটি সচল করতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "৬ লক্ষ মানুষের এই হাসপাতালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। প্রয়োজনে আমি আরও বড় বাজেটে আইপিএস ও সোলার ব্যাকআপের ব্যবস্থা করে দেব।" স্থানীয়রা দাবি জানিয়েছেন, এমপি মহোদয়ের দেওয়া জেনারেটরটি দ্রুত সচল করে হাসপাতালে আলো ফেরানো হোক। রোগীদের কষ্ট কমানোই হোক আমাদের সবার অগ্রাধিকার। অন্ধকারে নয়, আলোতে ফিরুক কালিয়াকৈর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন