প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এআই মামলার নামে ভুয়া লিঙ্ক আসছে খুদে বার্তায়। বিআরটিএ, ডিএমপির তরফ থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ট্রাফিক আইন মানাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সমৃদ্ধ ক্যামেরায় মামলা শুরুর পর নতুন এক প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। প্রতারক চক্র মোবাইলের মাধ্যমে ভুয়া খুদে বার্তা পাঠাচ্ছে যেখানে বলা হচ্ছে, এআই ক্যামেরায় মামলা হয়েছে এবং জরিমানা পরিশোধ করতে হবে।
তবে বিআরটিএ এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) স্পষ্ট করে বলেছে, তাদের তরফ থেকে এমন কোনো বার্তা পাঠানো হচ্ছে না। এজন্যে সবাইকে সতর্ক থাকতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
‘জরিমানা পরিশোধসংক্রান্ত চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি’ শিরোনামে এই ভুয়া বার্তাগুলোতে জরিমানা নম্বর, তারিখ, অপরাধের ধরন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ না করলে শাস্তির বিষয়টি উল্লেখ করা হচ্ছে। এছাড়া, জরিমানা পরিশোধের জন্য একটি লিঙ্কও পাঠানো হচ্ছে। লিঙ্কে প্রবেশ করলে জরিমানার পরিমাণ জানা যাচ্ছে।
সম্প্রতি বিআরটিএর সদর কার্যালয় থেকে জারি করা জরুরি সতর্কবার্তায় তারা উল্লেখ করেছে, অসাধু চক্র বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে স্পিডিং ফাইন বকেয়া রয়েছে, দ্রুত পরিশোধ করুন বা আপনার বকেয়া জরিমানা আছে-এ ধরনের বার্তা পাঠাচ্ছে। এসব বার্তার সঙ্গে বিভিন্ন ভুয়া ওয়েবসাইটের লিঙ্কও দেওয়া হচ্ছে, যা বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল (বিএসপি)-এর আদলে তৈরি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এসব ভুয়া ওয়েবসাইট বা পোর্টালের সঙ্গে অফিসিয়াল বিএসপি ওয়েবসাইটের কোনো সম্পর্ক নেই। এগুলো সম্পূর্ণ প্রতারণামূলক কার্যক্রম বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, এ ধরনের বার্তার লিঙ্কে ক্লিক না করতে এবং ব্যক্তিগত তথ্য বা আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি, বিআরটিএ প্রতারণার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় থানা বা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে অবহিত করার অনুরোধ করেছে। এদিকে, ট্রাফিক বিভাগের নামে পাঠানো জরিমানাসংক্রান্ত খুদে বার্তা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও অসত্য বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
ডিএমপির পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ট্রাফিক জরিমানা আদায়ের বিষয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নগরবাসী ভুয়া এসএমএস পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই ধরনের এসএমএসের সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
ডিএমপি জানিয়েছে, সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ অনুযায়ী কোনো যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা দিলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষরযুক্ত একটি চিঠি চালক বা মালিকের নির্দিষ্ট ঠিকানায় পাঠানো হয়। বিশেষ প্রয়োজনে ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে শুধুমাত্র ০১৩২০-০৪২২০৭ এবং ০১৩২০-০৪২২২৭ নম্বর থেকে এসএমএস পাঠানো হতে পারে।
এছাড়া, বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ট্রাফিক বিভাগের জরিমানা করা যানবাহনের ক্ষেত্রে অনলাইন ব্যাংকিংয়ের (উপায় ও ইউসিবিএল) মাধ্যমে বৈধভাবে অর্থ পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। ট্রাফিক বিভাগ কখনো কোনো ব্যক্তির কাছে ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পিনকোড, পাসওয়ার্ড কিংবা ওটিপি (OTP) জানতে চায় না। তাই, এ ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ট্রাফিকসংক্রান্ত যেকোনো সঠিক তথ্যের জন্য ডেল্টা-৩ অথবা ০১৩২০-০৪২২০৭, ০১৩২০-০৪২২২৭ এবং জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন