প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাতের প্রায় আড়াইটা বাজে ছিল। অসুস্থ বোধ করায় বলিউডের খ্যাতনামা অভিনেতা নানা পাটেকর এক বন্ধুকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু সেই বার্তার তিন ঘণ্টার মধ্যে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন এই অভিনেতা, যিনি হিন্দি ও মারাঠি সিনেমায় কাজ করেছেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৭৫ বছর।
নানা পাটেকরের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে মালহার পাটেকর। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে তিনি জানিয়েছেন, ‘হ্যাঁ, খবরটি সত্য। আমি বর্তমানে পুনেতে আছি এবং গোয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছি। পরে বিস্তারিত বিবৃতি দেব।’
তিনি আরও জানান, নানা পাটেকরের শেষকৃত্য পুনেতে অনুষ্ঠিত হবে। মহারাষ্ট্রের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আশিস শেলার জানিয়েছেন, নানা পাটেকরকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় দেওয়া হবে। মারাঠি থিয়েটার এবং মারাঠি ও হিন্দি সিনেমায় তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মহারাষ্ট্র সরকার, যা মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের নেতৃত্বাধীন, এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বন্ধুকে শেষ বার্তা
মৃত্যুর সময় নানা পাটেকর গোয়ায় তার বাড়িতে ছিলেন। মণিপাল হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান ডা. শেখর সালকার জানিয়েছেন, রাত আড়াইটার দিকে অসুস্থ বোধ করার কথা জানিয়ে এক বন্ধুকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন অভিনেতা।
তবে গভীর রাত হওয়ায় তার বন্ধু সময়মতো বার্তাটি দেখতে পারেননি, চিকিৎসক এ তথ্য জানিয়েছেন। ডা. সালকার বলেন, বন্ধুটি ভোর প্রায় ৪টার দিকে নানা পাটেকরের বাড়িতে পৌঁছে তাকে অতিরিক্ত ঘামতে ও শ্বাস নিতে কষ্ট করতে দেখেন। পরে তার কেয়ারটেকার অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসক দল বাড়িতে গিয়ে দেখতে পান, নানা পাটেকর কোনো সাড়া দিচ্ছেন না। সেখানেই সিপিআর শুরু হয়। এরপর সিপিআর চালু রেখেই তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ডা. সালকার জানান, নানা পাটেকরকে ভোর প্রায় ৪টা ২০ মিনিটে হাসপাতালে আনা হয় এবং চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
নানা পাটেকরের হৃদ্রোগের পূর্ব ইতিহাস ছিল কি না, সে বিষয়ে হাসপাতালের কাছে নিশ্চিত কোনো তথ্য ছিল না বলেও জানান তিনি। চিকিৎসকের মতে, হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে, তবে এর সুনির্দিষ্ট কারণ তখনো জানা যায়নি।
হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হওয়ায় ঘটনাটিকে মেডিকো-লিগ্যাল কেস (এমএলসি) হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর নানা পাটেকরের মরদেহ গোয়া মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন ডা. সালকার।
তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন